স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে নিজের বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হল এক যুবক । পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই যুবকের নাম সুবীর সাহা (৩৫) । বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরের ওয়ারলেস পাড়া এলাকায়। সূত্রের খবর, মৃত সুবীর সাহা একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে টিটাগড় থানার পুলিশ ।

জানা গিয়েছে, সুবীরের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর আত্মীয়রা ওই পাড়ারই গৃহবধূ পায়েল বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে । সূত্রের খবর, মৃত সুবীর সাহা তাদের পাড়ার বৌদি পায়েল বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মৃতের পরিবারের দাবি। এদিকে মৃত যুবক সুবীর সাহার ঘর থেকে এদিন তিন পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। সেই চিঠিতে ওই যুবক তার মৃত্যুর জন্য পায়েল নামে পাড়ার গৃহবধূ কে দায়ী করে গিয়েছে।

মৃতের আত্মীয়দের অভিযোগ, “গৃহবধূ পায়েলের সঙ্গে সুবীরের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল । সেই সম্পর্কের জেরে সুবীরকে আর্থিক ভাবে ব্ল্যাকমেল করছিল পায়েল । আর সেটা সুবীরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখলেই প্রমাণ হয়ে যাবে।”তবে সুবীরের আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত পায়েল । সূত্রের খবর, ৫ বছর আগে বারাকপুরের ওয়ারলেস পাড়ারই বাসিন্দা শীর্ষেন্দু দাস নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল অভিযুক্ত পায়েলের। তবে সম্প্রতি তাদের মধ্যে অশান্তি চলছিল। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ এতটাই বেড়ে যায় যে বর্তমানে পায়েলের সঙ্গে তার স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে । আর এই মামলা চলাকালীন সময়েই অভিযুক্ত পায়েল বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শীর্ষেন্দু দাসের বন্ধু আত্মঘাতী সুবীর সাহা।

এদিকে সুবীরের মৃত্যুর পর তার ঘর থেকে উদ্ধার করা সুইসাইড নোটে সুবীর পায়েলের বিরুদ্ধে তাকে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ এনেছেন । এবং তাকে ছাড়াও পায়েলের আরও বেশ কয়েকজন পুরুষের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক আছে বলেও ওই সুইসাইড নোটে লিখে গেছে মৃত সুবীর সাহা। সুবীর সাহার ওই সুইসাইড নোট থেকে তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরেছেন যে , সুবীরের সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালীন বেশ কয়েকবার সুবীর সাহা আর পায়েল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে অশান্তি বেঁধেছিলো । যার জেড়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আআত্মহত্যা করবার হুমকি দিয়েছিলো এই পায়েল বন্দোপাধ্যায়। এমন কি পায়েল সেই আত্মহত্যার চেষ্টার ছবি ভিডিও করে কিছুদিন আগে পাঠায় সুবীর সাহাকে।

জানা গিয়েছে, এর আগেও পায়েল একই ছবি পাঠিয়েছিল তার স্বামী শীর্ষেন্দু কেও। সুবীর সাহার ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সুউসাইড নোটটি দেখে মৃত সুবীর সাহার পরিবার টিটাগড় থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনা দেবার অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরিবারের দাবী অবলম্বে অভিযুক্ত পায়েল বন্দ্যোপাধ্যায়েকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তার কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।তবে এই ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন পায়েল বন্দ্যোপাধ্যায়৷