বালুরঘাট: ভুয়ো কোটায় চাকরি খোয়ানো শিক্ষক শিক্ষকদের শীঘ্রই পুনর্বহাল। আগামী দিন দুই-একের মধ্যেই তাঁদের ঠিকানায় অথবা মোবাইলে নিয়োগপত্র পৌঁছে যাবে। পুনর্বহালের এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষক শিক্ষিকারা তাঁদের আগের স্কুলেই কাজ করবেন। বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে এই কথাই জানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিপ্লব মিত্র।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে অন্যান্য এলাকার মতো দক্ষিণ দিনাজপুরেও শিক্ষক শিক্ষিকা বিভিন্ন স্কুলে নিয়োগ হয়েছিলেন।পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসে যে তাঁদের মধ্যে ৫৫জন রয়েছেন যাঁদের প্যারাটিচার কোটায় নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা তথা রাজ্য জুড়ে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। অন্যান্য জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে প্যারাটিচার থাকলেও দক্ষিণ দিনাজপুরে তা একজনও ছিল না। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই গত ১০মার্চ তাঁদের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের পক্ষ্য থেকে শুরু করে দেওয়া হয় আন্দোলন। এদিকে চাকরি খোয়ানো শিক্ষক শিক্ষিকাদের পুনর্বহালের চেষ্টায় বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা তৃণমূল সভাপতি বিপ্লব মিত্র সকলেই শিক্ষামন্ত্রী ও পর্ষদ সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন।

অবশেষে দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর বুধবার চাকরি খোয়ানো শিক্ষক শিক্ষিকাদের শীঘ্রই পুনর্নিয়োগের কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূল সভাপতি। এদিন বালুরঘাটের সুবর্ণতটে সাংবাদিক সম্মেলনে বিপ্লব মিত্র বলেন আগামী দুই তিন দিনের মধ্যেই পুনর্নিয়োগের নির্দেশ জেলায় পৌঁছে যাবে। তিনি একথাও বলেন যে কোনো কারণে ভুলবশত প্যারাটিচার কোটাই নিয়োগ হওয়ায় একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। কেউ কেউ তা নিয়ে ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছিলেন। অহেতুক দুর্নীতি ও অনিয়মের জিগির তুলে পরিবেশ অশান্ত করবার চেষ্টা করছিলেন বলেও তিনি নাম না নিয়ে বিরোধীদের একহাত নিয়েছেন। পুনর্নিয়োগের এই ঘোষণায় খুশি চাকরি খোয়া যাওয়া শিক্ষক শিক্ষকরা।