সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি: মানসিক রোগের চিকিৎসায় পশ্চিমবঙ্গকে পথ দেখাতে চলেছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল। খুব শীঘ্রই মানসিক রোগের চিকিৎসায় জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের প্রায় প্রতিটি ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে মানসিক রোগীদের জন্য খোলা হচ্ছে বিশেষ আউট ডোর। যেখানে থাকবেন প্রশিক্ষিত মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং কাউন্সিলিং এরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মানসিক অবসাদের জেরে গোটা ভারতবর্ষে আত্মহত্যায় মৃত্যুর হারের বিচারে প্রথম এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গ। সিকিমে প্রত্যেক বছর এক হাজার মানুষের মধ্যে মানসিক অবসাদে ভুগে আত্মহত্যা করে মারা যান ছয় থেকে সাতজন মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে সেই পরিসংখ্যানটি হাজারে তিন থেকে চারজন। এমনই ভয়ঙ্কর সমীক্ষা তুলে ধরা হয়েছে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য প্রকল্প দফতরে। পশ্চিমবঙ্গে মানসিক অবসাদে ভুগে আত্মহত্যার প্রবনতা সর্বাধিক স্কুল এবং কলেজ পড়ুয়া ও চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে। প্রত্যেক ছয় জন পুরুষের মধ্যে এক জন এবং চার জন মহিলারদের মধ্যে এক জন মানসিক রোগের শিকার হন। মহিলাদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবনতা তুলনামূলকভাবে বেশি। এমনই অবস্থায় এগিয়ে আসছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল। stamp
এবিষয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার তথা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা নির্মল বেরা বলেন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য প্রকল্পের তরফে গোটা দেশে এই রোগ নিয়ে কাজ চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে জেলা মানসিক স্বাস্থ্য প্রকল্প। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারকে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেছে। জলপাইগুড়িতে বর্তমান জনসংখ্যা ৩৮ লক্ষ। কোচবিহারের সংখ্যা ২৩ লক্ষ। নির্মল বেরা আরও বলেন, তাঁদের লক্ষ্য ওই দুই জেলার সমস্ত মানুষকে এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করা। তিনি জানিয়েছেন, জলপাইগুড়ি জেলার বেশ কিছু স্কুল এবং কলেজে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা মানসিক রোগ সম্পর্কে ছাত্রদের সচেতন করছেন। একই সঙ্গে ছাত্রদের মানসিক অবসাদ, দুশ্চিন্তা, পড়াশোনার চাপ নিয়েও কাউন্সিলিং করছেন। কারণ, ছাত্রদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবনতা অনেকাংশে বেড়ে গিয়েছে। স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেনি পর্যন্ত ছাত্রদের উপর বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে খুব শীঘ্রই জলপাইগুড়ি জেলার ১৮৭ টি চা বাগানেও কাজ শুরু করবে তাঁদের চিকিৎসকদের টিম। চা বাগান গুলিতে মানসিক অবসাদ এবং বিভিন্ন নেশার শিকার হন শ্রমিকরা। জীবনে বাঁচার পথ খুঁজে না পেয়ে তারা মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছে। সেই সব মানুষদের কাউন্সিলিং করে বাঁচার পথ দেখানোই লক্ষ্য বলে জানান, নির্মল বেরা। বর্তমানে বেশ কিছু চা বাগানে মেডিকেলের চিকিৎসকেররা কাজ করছে। সরকারিভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন হওয়ার পর চিকিৎসকারা পুরোপুরি কাজ শুরু করে দেবেন।
গোটা বিশ্ব জুড়ে মানসিক রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রত্যেক দুই সেকেন্ড অন্তর একজন করে মানুষ আত্মহত্যার শিকার হচ্ছেন। হৃদ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বে সর্বাধিক। চতুর্থ স্থানে রয়েছে মানসিক রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন সমীক্ষা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মানসিক রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দ্বিতীয় স্থানে পোঁছবে।