সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: মেঘের উচ্চতা বেড়ে যাওয়াতেই বাড়ছে বজ্রপাতের সংখ্যা৷ এমনটাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিসের কথায় সায় দিচ্ছেন পরিবেশবিদরাও। গত এক মাসে ব্যাপক বজ্রবিদ্যুতসহ ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে প্রাণহানি হয়েছে প্রায় ২৬ জনের। এই ব্যাপক বজ্রপাতের কারণ লুকিয়ে রয়েছে মেঘের মধ্যেই।

গত ১৭, ২৬, ৩০ এপ্রিল এবং দুই মে ঝড়ের তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। বাড়ি-ঘর ভেঙে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বাজ পরে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। সব মিলিয়ে গত এক মাসে রাজ্য জুড়ে বজ্রাঘাতে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২৬ জন (বেসরকারি তথ্য)। গ্রামের দিকে মানুষ বেশি মারা গিয়েছেন বলে খবর মিলেছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে ঝড়-বৃষ্টি চলাকালীন কেউ ফাঁকা মাঠে ছিলেন, কেউ কোনও ল্যাম্প পোস্টের কাছাকাছি ছিলেন, কেউ বা বাড়ি ফিরছিলেন।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছিল, তবে কি শহরের পাশাপাশি গ্রামেও দূষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে? কারণ, পরিবেশবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অতিরিক্ত বজ্রপাত দূষণেরই ফল। তবে এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অন্য কথা জানা গিয়েছে। হাওয়া অফিসের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস বলেন, “এটা ঠিক যে দূষণের কারণে অতিরিক্ত বজ্রপাত হয়। তবে আমরা মনে করছি, গত কয়েকদিনের বজ্রপাতের কারণ মেঘের উচ্চতা। আমরা দেখেছি অনেক ক্ষেত্রেই মেঘ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৫-২০ কিলোমিটার উপরে৷ তার ফলে সংঘর্ষ বেশি হচ্ছে মেঘের মধ্যে। তার ফলেই গ্রাম এবং শহরে বজ্রপাত হচ্ছে।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “মানুষকেও বুঝতে হবে যে ঝড় বা এ রকম বজ্রপাত হলে রাস্তায় যাতে না বের হন৷ বাইরে থাকলে কোনও স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে। তা হলে হয়তো দুর্ঘটনার সংখ্যা কমতে পারে।” এই প্রসঙ্গে পরিবেশবিদ কল্যাণ রুদ্র বলেন, “বজ্রপাতের সঙ্গে দূষণের প্রশ্ন চলেই আসে। তবে গ্রামের দিকে বজ্রপাতে মৃত্যুর সঙ্গে দূষণের কোনও সম্পর্ক নেই। হলফ করে বলতে পারি গ্রাম সেই পরিমাণ দূষিত হয় যায়নি যে সেখান থেকে বজ্রপাত হতে পারে। মানুষকে সতর্ক হতে হবে।”

আবহবিদ গণেশকুমার দাস বলেন, “এই বছরে বজ্রপাত বেশি হচ্ছে। এমনটাও কিন্তু নয়। এটা প্রতি বছরের বিষয়। আমরা সে জন্যই আবহাওয়ার সতর্কতা দিয়ে থাকি। এখন মানুষ অনেক আপডেট। খবর মিনিটের মধ্যে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্রান্তে। আমাদের দেওয়া সতর্কতা গ্রামের মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়। বাকিটা নিজেদের তৎপরতার ব্যাপার।”