শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার: রাজবংশী উন্নয়ন পর্ষদের সহ সভাপতি পদে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মণকে রাজ্য সরকারের মনোনীত করা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বংশী ঘনিষ্ঠ একসময়ের সহযোগী ভবেষ বর্মন৷

আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেটার কোচবিহার ডেমোক্রেটিক পার্টিতে যোগদান করলেন৷ জিসিডিপিতে যোগদানের পর কোচবিহার প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জিসিপিএর দুই গোষ্ঠীর নেতা বংশীবদন বর্মণ ও অনন্ত রায়কে সুবিধাবাদী বলে দাবি করেন।

এই দুই নেতা রাজবংশী মানুষকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থের জন্য দলকে ব্যাবহার করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি৷ ভবেষ বর্মণ জানিয়েছেন, রাজবংশী উন্নয়ন পর্ষদের সহ সভাপতি হিসেবে যাতে বংশীবদন বর্মণকে বিবেচনা করা নাহয় তাঁর জন্য জেলা শাসকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন পত্র পাঠাবেন তাঁরা৷

ভবেষ বর্মণ ছিলেন জিসিপিএ বংশীবদন বর্মণ গোষ্ঠীর ডেপুটি সেট্রেটারি। ২০১৬ সালের নিউকোচবিহার স্টেশনে অবরোধ আন্দোলন কর্মসূচিতে বংশীবদনের অন্যতম সহযোগী। রেল অবরোধের ঘটনায় প্রায় এক মাস জেল বন্দি থেকেছেন ভবেষ বর্মন৷ যদিও ভবেষ বর্মনের অভিযোগ রেল অবরোধের সব দায় বংশী বদন বর্মণ তাঁর উপর চাপিয়ে তাঁকে দল থেকে বের করে দেন। ভবেষ বর্মনের দাবি, বংশীবদনের এক রোখা মনভাবের ফলেই ওই আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল, এছাড়াও কর্মীদের ফেলে রেখে আন্দোলন থেকে বংশী বদনের পালিয়ে যাওয়া নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি৷

তাঁর দাবি, শাসকদল যদি মনে করে সরকারি পদ দিয়ে পঞ্চায়েত ভোটে রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভোট তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে যাবে তাহলে ভুল ভাবছে কারণ রাজবংশী মানুষ বংশীবদনের সঙ্গে নেই। বংশী বদন বর্মণ জিসিপিএর দাবিগুলি থেকে সরে এসে রাজবংশী মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

যদিও ভবেষ বর্মনের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন বংশী বদন বর্মণ তাঁর দাবি, “দলের সঙ্গে গদ্দারি করেছে ভবেষ বর্মন৷ তাই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে৷ বহিষ্কৃত ব্যক্তির করা মন্তব্যে কোন উত্তর দেব না আমি৷” এদিনের এই সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যন্নদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জিসিডিপির সভাপতি নির্মল কুমার রায়, সম্পাদক জয়কান্ত বর্মণ প্রমুখ।