সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : শুরু হয়েছে নবনারী তলার পুজো। একটি নতুন নব নারী, অন্যটি পুরনো নব নারী। হাওড়ার বাকসাড়ায় এই দুই বিগ্রহের পূজা হয়। নবনারী মূলত রাধাকৃষ্নেরই পুজো।বহু বছর ধরে চলে আসছে এই পুজো। খানিক দুরত্বেই পুজো হয় এই দুই বিগ্রহের। একটি পূরাতন ও একটি নূতন। পূরাতনের পুজো শুরু হয় বুদ্ধ পূর্ণিমায় ও নূতনটির পুজো শুরু হয় অক্ষয় তৃতীয়া থেকে। প্রতি বছর শ্রাবণের শেষ রবিবার বিসর্জন হয়।

এর পিছনে একটি ইতিহাস আছে। বেতড়, একসময় বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাণিজ্য কেন্দ্র। মধ্য যুগের সাহিত্যে এবং বিদেশীদের লেখায় বেতড়ের উল্লেখ মেলে। বেতড়ের পাশেই ছিল সাতঘরা। এটি একটি গ্রাম। সাতটি ঘর থেকে সাতঘরা।

মাত্র সাতটি পরিবার এখানে বাস করতো। পরবর্তীকালে পর্তুগীজরা এখানে বাণিজ্য করত। বলত, স্যাট গরা। এই গ্রামে বৃন্দাবন থেকে এক সাধু আসেন। তিনি ছোট চালা বানিয়ে পুজো করতে শুরু করেন। সন্ধ্যাবেলা তিনি ধর্ম আলোচনা করতেন। থাকত মূলত জেলে, সাঁওতাল ও আরও অনেকে। সেই শুরু। সেখান থেকেই অনেক ধাপ পেরিয়ে স্হানীয় জমিদারের আগ্রহে তৈরী হয় নবনারী কুন্জ। যা ঘোষালদের। খিদিরপুরের বিখ্যাত ভূকৈলাশ শিবমন্দির ও জমিদারবাড়ির মালিক এই ঘোষালরা। এরা কলকাতা বন্দরে ব্যবসা করত।

নবনারী কুঞ্জ কী? কৃষ্ণকে রাধা এবং তাঁর অষ্ট সখী মোট ৯ জন নারী নিজেদের পিঠে করে নিয়ে চলেছেন বৃন্দাবনে। নিজেদের পরিচয় লুকোতে এই নয় নারী এক হতে হাতির রূপ ধারণ করে। তারপর পিঠে করে নিয়ে যায় শ্রীকৃষ্ণকে। এখানে নব মানে নতুন রূপেও হতে পারে আবার নয় জন নারী মিলেও হতে পারে।

প্রাচীন পৌরাণিক ব্যাখা অনুযায়ী এখানে এখন আর মূর্তি নির্মাণ হয় না। তা হলে শ্রীকৃষ্ণের একার পুজো হওয়ার কথা। এখানে কৃষ্ণ ও রাধা পাশাপাশি বসেন। এটা নবনারীর রূপ নয়। এটা বিবর্তিত রূপ।

এখানে রাধা কৃষ্ণের সম্পূর্ণ অন্য ধরণের একটি মন্দির গড়ে ওঠা নিয়ে ঐতিহাসিকরা বলছেন বেতড় বন্দরে যে সব মানুষ কাজের সূত্রে আসতেন, তারা সন্ধ্যাবেলা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে হরিনাম করে সময় কাটাতেন।

বলা হয় এখানকার মানুষদের সাংস্কৃতিক বোধ উঁচু ছিল। রাধা কৃষ্ণের লীলা কথা অনুধাবন করার মতো ক্ষমতা এঁদের ছিল। সরস্বতী নদী পথে এখান দিয়ে মহাপ্রভু চৈতন্যদেব সপার্ষদ শ্রীক্ষেত্র বা পুরীতে গিয়েছেন। এখান থেকে খানিকটা এগিয়ে মহাপ্রভু চৈতন্যদেব যে জায়গায় নেমে বিশ্রাম করেছিলেন, সেখানকার মহিলারা শঙ্খধ্বনি দিয়ে ওনাকে বরণ করেন। তীব্র শঙ্খ রোল উঠেছিল বলে জায়গাটার নাম হয় সাঁকরাইল। তার আগে মহাপ্রভুর এক জায়গা দিয়ে পায়ে হেঁটে যান। মহাপ্রভুর চরণ ধূলি পড়েছিল।

স্থানীয় ভক্তরা এটিকে আনন্দ ধূলি হিসেবে স্মরণ করে জায়গায় নাম দিলেন পরে বিবর্তনের পর সে নাম হল আন্দুল। মহাপ্রভু যেদিক দিয়েই গিয়েছেন সেখানকার মানুষ বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। তাই নিম্নবর্গীয়দের মধ্যে ধর্মবিশ্বাস ও তাদের অত্যন্ত সহজেই ধর্ম পালনের যে দিশা মহাপ্রভু দিয়ে গিয়েছেন তার জেরেই এই মন্দির গঠনের সম্ভাবনা বলে ধরে নেন ঐতিহাসিকরা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.