সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বাঙালির প্রাণের পুজো নাকি দুগ্গা পুজো। সে পুজোয় আছে আলোর রোশনাই। ভেলপুরী, চটপটির স্বাদ। প্রথম প্রেমের প্রথম চুম্বনের আস্বাদন। এক উৎসবের বহু রং। এটাই চেনা ছবি বাঙালির। কিন্তু এ কেমন পুজো? যার রং শুধুই রক্তের মতো।

‘মা’ নাকি ঘোড়ায় আসছেন। পঞ্জিকা অনুযায়ী এর অর্থ মড়ক। ফল খারাপ। নাস্তিকরা পঞ্জিকার এসব কথা নিছক ‘কোইনসিডেন্স’ বলতেই পারেন। কিন্তু দুর্গতিনাশিনির পুজোর আগে কবে এমন একের পর দুর্ঘটনা ঘটেছে রাজ্যে তা মনে করতে পারছেন না কেউ। পুজোয় ঝড়, বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এতে না মানুষের ঠাকুর দেখায় বাধা পড়েছে না সমস্যা হয়েছে পুজো প্রস্তুতিতে। গত ১০০ বছরে এমন একের পর দুর্ঘটনা রাজ্য শেষ কবে হয়েছিল সেই রেকর্ড খুঁজে পাওয়া মুস্কিল। ৭০ বছরে যে এই রেকর্ড নেই তা নিশ্চিত করছেন সিনিয়র সিটিজেনরা।

গত এক দেড় মাসের তালিকায় রাজ্যের ক্ষতির পরিমাণ পাহাড়প্রমান। পুজোর আগে অশনির উদ্বোধন করে মাঝেরহাট ব্রিজ। মাঝখান থেকে ভেঙে যায় ব্রিজ। প্রাণ যায় দুই জনের। পরের ঘটনা বাগরি মার্কেটের অগ্নিকাণ্ড। প্রাণহানি হয়নি কিন্তু আগুনের ক্ষতির পরিমান কয়েক’শো কোটি টাকা। এই দুই ঘটনার মাঝে ব্রিজ ভাঙে উত্তরবঙ্গেও। বাগরি মার্কেটের আগুন চারদিন ধরে জ্বলেছিল।

পরের ঘটনা দারিভিটের স্কুলে দুষ্কৃতীর গুলিতে দুই ছাত্রের প্রাণ যায়। রাজনৈতিক দলের ডাকা মাত্র ১২ ঘন্টার অসফল বাংলা বন্ধেও একের পর এক হিংসার ঘটনার প্রমাণ মিলেছে।

অহিংসার পথ দেখিয়েছিলেন বাপু। তাঁর জন্মদিনেই মহানগরের বুকে বোমা বিস্ফোরণ। মৃত্যু দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশু। আর বুধবার আবারও আগুনের প্রত্যাবর্তন। এবার আগুন লাগে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আগুনে না পুড়লেও চিকিৎসার হঠাৎ খামতি হওয়ায় মৃত্যু হয় বৃদ্ধের।

ভোলা সরকারের বয়স আশির কাছাকাছি। তিনি বলেন, “না , এমন কোনওদিন হয়নি। একটার পর একটি দুর্ঘটনা। ঠাকুর ঘোড়ায় আসছেন যে।” মনিমালা দেবী জানালেন, “নকশাল পিরিয়ডেও অত্যন্ত ভালোভাবে পুজো হয়েছে। এমন কোনওদিন হয়নি বাবা।”

ব্রিজ নতুন তৈরি হয়ে যাবে। আবারও বাগরি মার্কেট খুলবে। কিন্তু প্রাণের পুজো এমন প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে তা হয়তো কেউ ভাবেননি। এসবের মাঝেও ঢাক বাজবে। কোটি টাকার মন্ডপ পুরস্কার পাবে। দুর্গতিনাশিনির থিম পুজো হবে। কিন্তু ওই প্রাণগুলো কি ফিরে আসবে? ফিরে আসবে কি পুড়ে যাওয়া ব্যবসার জিনিসগুলো?
ঘর পোড়া গরুর মতো অবস্থা রাজ্যের আম জনতার। কে জানে আর কি ঘটে আগামী এগারো দিনে!