কলকাতা: পুণ্য স্নানের জন্য বহু নাগা সন্ন্যাসী ইতিমধ্যেই হাজির হয়েছেন গঙ্গাসাগরে। কিন্তু সহজে হয়ে ওঠেন না নাগা সন্ন্যাসী। নাগা সন্ন্যাসী হওয়ার প্রক্রিয়া খুব গোপনীয়। নাগা সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য বেশ কিছু কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

১২ বছর পর্যন্ত কঠর প্রশিক্ষণ চলে, এই সময় নিজেদের খাদ্য নিজেদের তৈরি করতে হয়। তাছাড়া নিজের গুরুর সেবা তাদের করতে হয়। প্রশিক্ষণ চলাকালীন কোন ভুল হলে তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। একজন মানুষের নাগা সন্ন্যাসী হতে ২০ বছর সময় লাগে। আট বছর বয়স হলে প্রতিষ্ঠানের মহাত্মারা এই সব শিশুদের কাছে লাখ লাখ টাকার দায়িত্ব দিয়ে পরীক্ষা করেন। এই পরীক্ষায় পাশ করলে তাঁকে একটা ছোট্ট মন্ত্র দেওয়া হয়।

এরপর ১২ বছর বয়সে তার আসল প্রশিক্ষণ শুরু হয়। বাল নাগাদের প্রশিক্ষণ অনেকটা সেনার জওয়ানদের মতন হয়। যে কোনও পরিস্থিতিতে তাদের অটল থাকতে এবং প্রয়োজনে মাতৃভূমি এবং সমাজের জন্য অস্ত্র ধারণ করতে হবে। নাগা সন্ন্যাসীরা মনে করেন সন্ন্যাসীদের নিজের কোন সংসার থাকে না, তাই তারা নিঃস্বার্থভাবে মাতৃভূমি এবং সমাজের সেবা করতে পারেন।

কিন্তু সব সন্ন্যাসীরা নাগা নয়। এদের মধ্যে ভাগ আছে। এদের তিনটি ভাগ আছে, নাগা, তান্তোরা এবং নির্বাণ। বাল নাগা সাধু এই তিন শ্রেণীর যে কোনও একটির দীক্ষা নিতে পারে। এ এমন এক আধ্যাত্মিক জগৎ যার ধারের কাছে সাধারণ মানুষ পৌঁছতে পারে না। চারটি কুম্ভের পর ব্রম্ভচারি বালকদের নাগা সন্ন্যাসের দীক্ষা দেওয়া হয়, তারপর তাদের যৌনাঙ্গকে বিশেষ উপায়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়। এরা সারা জীবন তেল আর সাবান লাগাতে পারেন না। এরা সারা শরীরে ভস্ম মেখে রাখে। যে সব খাদ্য শরীরে উত্তেজনা তৈরি করে, সেই সব খাদ্য থেকে এদের দূরে থাকতে হয়। ব্রহ্মমুহুর্তে তাদের মন্ত্রদান করা হয়। এই মন্ত্র এক সাধনা।

বলা হয় এই সন্ন্যাসীরা যে ভস্ম শরীরে মেখে রাখে, এই ভস্ম তাদের বিষাক্ত সাপ, মশা এসবের হাত থেকে রক্ষা করে। কিন্তু এই ছাইয়ের মধ্যে গোবর, বেলপাতা, কলা-সহ আরও অনেক কিছু মেশানো থাকে। এর মধ্যে কাচা দুধ মিশিয়ে এক মিশ্রণ তৈরি করে তা তারা শরীরে মাখে। এরা ব্রহ্ম মুহূর্তে ঘুম থেকে ওঠেন। তারপর হবন, ধ্যান, বজ্রোলি, প্রানায়ম, কপাল ক্রিয়া আর নৌলি ক্রিয়া করেন।

নাগা সাধু দিগম্বর অখিলেশপুরী বলেন বলেন, আমাদের লিঙ্গ অকেজো করে দেওয়া হয়। আমাদের কোনও কামনা-বাসনা থাকে না। যারা যৌন কামনার প্রবল বেগকে সামলে নিতে পারে তারাই নাগা। কাম, ক্রোধ, লোভ সেই সিদ্ধি লাভ করে যে যৌন বাসনার বিরুদ্ধে জয়ী হয়। নাগা অর্থ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রকৃত সত্য সন্ধান করে যে। এ ধরনের ব্যক্তিদের সাংসারিক জীবন থেকে দূরে থাকতে হয়। তাদেরকে ত্যাগের প্রতীক বলে মান্য করে ভক্তরা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও