স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁকে ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)। টুইট করে নিজেই সে কথা জানালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankar)। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ফোনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। হিংসা, ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ, লুঠ ও খুনের ঘটনায় আমি উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ভোটের ফল ঘোষণার পরেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপরে বিজেপি-র তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাজ্যে একাধিক জায়গায় তাঁদের দলের কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করে গেরুয়া শিবির। উল্লেখ্য, ভোটের ফল ঘোষণার পর তাদের কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছে, এই অভিযোগে সোমবারই রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপির প্রতিনিধি দল। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, আমাদের ৬ জন কর্মীকে খুন করা হয়েছে। জেলায় জেলায় আমাদের কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর হচ্ছে। এরপরই রাজ্যপালকে প্রধানমন্ত্রী ফোন করার পর মোদীকে পাল্টা কটাক্ষ করে টুইট করেছেন তৃণমূল নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন। তিনি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী ‘রাজনৈতিক হিংসা’ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালকে ফোন করেছেন (২১৪ শতাংশ অতিরঞ্জিত)। বরং কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে ফোন করুন।

আরও পড়ুন: পায়েল-শ্রাবন্তী-তনুশ্রীদের টিকিট কেন? দিলীপ-কৈলাশকে চাঁচাছোলা আক্রমণ তথাগতর

এর আগে সকালে একটি ট্যুইট করে হিংসার ঘটনার নিন্দা করেছিলেন রাজ্যপাল। হিংসার ঘটনা রুখতে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে বলেছেন। এদিন রাজ্যপাল ট্যুইট করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও রাজ্য পুলিশকে এই অর্থহীন রাজনৈতিক হিংসা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হত্যা ও হুমকি প্রতিরোধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনা গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জাজনক। সারা বিশ্বের সমগ্র বঙ্গ সমাজই আইন-শৃঙ্খলার অভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই কেন ভোট-পরবর্তী হিংসা? গণতন্ত্রের ওপর এই নিগ্রহ কেন? এমনকি রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকেও রাজভবনে ডেকে পাঠান জগদীপ ধনকড়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে অশান্তির ঘটনা ঘটেছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, জানতে চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়েছেন বলেও ট্যুইটারে জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই, ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

সোমবার সন্ধেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজভবনে যান। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাজ্যপাল ট্যুইট করে জানান, একঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠকে আমি যে বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছি, তা হল ভোট-পরবর্তী হিংসা থামাতে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.