কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন লকডাউন হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন লকডাউন হওয়ার কোনও সম্ভাবনা এখন নেই। এই বিষয় রাজ্য সিদ্ধান্ত নেবে। তাও কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে লকডাউনের গুজব ছড়িয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে জিনিসপত্রের। এই মুহূর্তে রাজ্য প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যা দাঁড়াবে তাতে ২০২০-র লকডাউনের সময় বাজারে যে হাহাকার শুরু হয়েছিল, জিনিসপত্র কেনার উপায় ছিল না সেটাই আবার শুরু হবে।

গাড়িয়া, লেক মার্কেট, গড়িয়াহাট, মানিকতলা বাজারে কান পাতলেই এখন শোনা যাচ্ছে ,“আর কয়েকদিন পরেই লকডাউন। ভোট শেষ হবে আর লকডাউন শুরু হন্যে।” এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী এই আতঙ্ক ছড়িয়ে ক্রেতাদের ভয় দেখিয়ে চলেছেন। উত্তর কলকাতার মানিকতলা থেকে দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া, বাঁশদ্রোণী বাজার সর্বত্রই একই অবস্থা। সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে মুদির দোকানের মালিক সবাই একত্রে এই আতঙ্ক ছড়িয়ে ক্রেতাদের দিশাহারা করে তুলেছে।

এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরলারের বাজার বিষয়ক টাস্ক ফোর্সের সদস্য রবীন্দ্রনাথ কোলের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, “কোনও দোকানি আলু বা ডিম মজুত করছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমাদের কাছে কিছু কিছু খবর আসছে মজুতদারির, কিন্তু সঠিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।”

তবে দিল্লিতে লকডাউন জারি হয়েছে। মুম্বইতে মাত্র চার ঘণ্টা খোলা থাকছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান। এই রাজ্যেও তেমনটা হতে চলেছে, এই গুজব ছড়িয়ে কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাজারে ব্যবসায়ী মজুতদারি করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাঁশদ্রোণী বাজারে বুধবার সকালে পটল, ঢেঁড়শ, পেঁয়াজ, ডিম, আলু সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। ২০২০-র করোনা পরিস্থিতিতে ৫ টাকার ডিমের দাম ৭ থেকে ৮ টাকা হয়েছিল। বাজারে আলু, পটল, পেঁয়াজ সব কিছুর দাম বেড়ে গেছিল। ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি জিনিস কিনেছেন। বিক্রেতারাও বাড়তি জিনিস মজুত করেছে তখন। গত ২০২০-তে লকডাউনের সময় মানিকতলা, গড়িয়াহাট, বেহালা, গাড়িয়া, বাঁশদ্রোণী, লেক মার্কেটের বাজারে উপচে পড়েছিল মানুষের ভিড়। বাজার থেকে সংক্রমণের প্রবল সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করেও মানুষ নিত্যদিনের জিনিস কিনতে বাজারে ছুটেছিল। রাতারাতি বাজারগুলিতে অতিরিক্ত চাহিদার তৈরী হওয়ার ফলে কালোবাজারির অভিযোগও উঠেছিল। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার বাজারগুলিতে হানা দেওয়া হয়। এবারও এখনই যে ভাবে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে তাতে এখনই প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ না নিলে বাজার আবার হাতের বিয়ে চলে যাবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.