স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: কুমারগঞ্জে কিশোরীকে গণধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য। শনিবার কুমারগঞ্জে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা না করেই ফিরতে হয়েছে হুগলীর বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। কারণ, এদিন বালুরঘাট জেলা প্রশাসনের তরফে নির্যাতিতার বাবা-মাকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল। ফলে, কার্যত ফাঁকা বাড়ি দেখেই ফিরে আসতে হয় সাংসদ এবং তাঁর কর্মকর্তাদের।

জেলা প্রশাসনের তরফে মৃতের পরিবারকে ৪,১২, ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ”রাজ্যে বাংলার দুর্গাদের সম্মান টাকা দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।”পাশাপাশি গোটা ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। একই সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লকেট।

জানা গিয়েছে, বাড়িতে কাউকে না পেয়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের নেতৃত্বে এদিন কুমারগঞ্জ থানায় যান বিজেপি নেত্রী। থানায় গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁদেরকে বাধা দেয় পুলিশ। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা চত্বরে রীতিমত
ধুন্ধমার অবস্থার সৃষ্টি হয়। পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন সাংসদ এবং তাঁর কর্মী সমর্থকরা।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দিনাজপুরে এক কিশোরীকে জলসা দেখানোর নাম করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ৩ যুবক। এরপর তাকে ধর্ষণ এবং পরে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়। রাতে কার্লভার্টের উপরে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটা হয়। তারপর প্রমান লোপাটের চেষ্টায় মৃতদেহটি কার্লভার্টের তলায় টেনে নিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমাবস্থায় মৃতার নাম ঠিকানা কিছুই পাওয়া না গেলেও সোমবার বিকেলে তাঁকে শনাক্ত করেন পরিবারের লোকেরা। ঘটনাস্থল থেকে একটি বাইক সহ বেশ কিছু প্রমান উদ্ধার করে পুলিশ।