তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘সংরক্ষণে’র গ্যারোয় পড়ে এবার তাঁর ‘সভাধিপতি’ পদ যাচ্ছে। জেলা পরিষদের পদটি এবার তপশিলী উপজাতি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। এটা নিশ্চিত জেনেও এবারও পঞ্চায়েত ভোটে জেলা পরিষদের প্রার্থী হচ্ছেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাপতি তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্ত্তী।

শুক্রবারই বিষ্ণুপুর মহকুমা শাসকের দফতরে দলীয় নেতা সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন তিনি। খবরে প্রকাশ, এবার তাঁর পুরনো কেন্দ্র বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন পুয়াবাগান ছেড়ে সুদূর ইন্দাসের ৪১ নম্বর আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দীতা করবেন।

বাঁকুড়া জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাপতি জেলা তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ নেতা অরূপ চক্রবর্ত্তী দীর্ঘদিন বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা। গতবার যে পুয়াবাগান আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করে জিতে জেলা সভাধিপতি হয়েছিলেন৷ সেই আসনে এবার ‘সংরক্ষণের’ যাঁতাকলে পড়ে তিনি ভোটের লড়ার সুযোগ হারিয়েছেন।

বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকায় এতও জায়গা থাকতে কেন তিনি বাঁকুড়া-বর্ধমান সীমান্তের প্রত্যন্ত ইন্দাসে ভোটে লড়ার জন্য ছুটে গেলেন? জেলা রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

অনেকে মনে করছেন, বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকা থেকে সভাধিপতি অরুপ চক্রবর্ত্তী নিজেও জয়ের ব্যাপারে সন্দিহান। আবার অনেকে বলছেন, অরুপ চক্রবর্ত্তীকে তার নিজের এলাকার দলীয় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ভোটের ময়দানে তিনি নিজের দলের কর্মীদের সহায়তা নাও পেতে পারেন। তাই নিজের ‘জয়’ নিশ্চিত করতেই তিনি ইন্দাসের ‘নিরাপদ’ আসন থেকে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবিষয়ে বিরোধীরাও কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না।

সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, প্রাক্তন জেলা সম্পাদক অমিয় পাত্র কলকাতা 24×7 কে টেলিফোনে বলেন, বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকায় কোন জায়গা থেকেই বিরোধীরা শাসক দলের বিপরীত প্রার্থী দিতে পারছেন না। সব কটি ব্লক অফিস ও মহকুমা শাসকের দফতর তৃণমূল কর্মীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থক ও ভোট পদপ্রার্থীদের মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকায় প্রায় সব কটি আসনেই শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় জয়ী হবে।

গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে ভোট হলে উনি জিতবেন না জেনেই ইন্দাসের ‘নিরাপদ’ আসনে ‘প্রতিদ্বন্দীতা’র জন্য ছুটে গিয়েছেন। বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র একধাপ এগিয়ে বলেন, বাঁকুড়া জেলায় তৃণমূল আজ মানুষের রায়ে ভোটে জেতার ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহান। সে কারণেই ওরা সব জায়গায় বিজেপি কর্মীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

জেলা জুড়ে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছে। মনোনয়নপত্র দাখিল, সুষ্ঠুভাবে ও নিরপেক্ষভাবে ভোট হলে সভাধিপতি যেখান থেকেই ভোটে লড়ুন উনি নিশ্চিৎ হারবেন। একই সঙ্গে তার আরও সংযোজন প্রশাসনের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি আর সুষ্ঠ ও অবাধ ভোট হলেই সমগ্র বাঁকুড়া জেলাতেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনেই ”তৃণমূল ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে” বলে তার দাবি।

অন্যদিকে বিষ্ণুপুর মহকুমা শাসকের দফতরের ইন্দাসের ৪১ নম্বর জেলা পরিষদের আসনে নিজের মনোনয়নপত্র দাখিল করে অরূপ চক্রবর্ত্তী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, প্রতি বছর পুজোতে ইন্দাসে আসি। তাছাড়া এখানকার ব্লক সভাপতি আমাকে ইন্দাস থেকে ভোটের লড়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ইন্দাসের প্রতি ভালোবাসার টানেই এখানে ছুটে আসা।

তাহলে কি ‘সেফ জোনের সন্ধানে এতো দূরে এসে ভোটে দাড়াচ্ছেন’? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্ত্তীর সাফ জবাব, ‘বাঁকুড়া জেলার প্রতিটি অংশই পলিটিক্যালি সেফ জোন’। এই নির্বাচনে তৃণমূল আবারও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাসী।