কলকাতা: দেশজুড়ে এখন প্রতিবাদ। প্রতিবাদের আঁচ বাংলাতেও। ইতিমধ্যেই পথে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারের পর মঙ্গলবারও নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে পথে নামেন মমতা। দুপুর ১২ টা ৪৫ নাগাদ যাদবপুরে পৌঁছান তিনি। বেলা ১ টা নাগাদ শপথ নিয়ে পথে নামে তৃণমূল। মিছিল শুরুর আগে তিনি মনে করিয়ে দেন ‘ধর্ম আপনার আপনার, দেশ সবার’।

মিছিল শুরুর আগে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শপথ নেয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা। “আমাদের শপথ আমরা সবাই নাগরিক। কাউকে বাংলা ছাড়া হতে দেব না। শান্তিতে থাকুন। নিশ্চিন্তে থাকুন। বাংলায় এনআরসি, ক্যাব হতে দিচ্ছি না, দেব না। বাংলায় নাগরিকত্ব সংশোধন আইন হবে না।” এই শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের নেতাকর্মীরা।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন বাংলার বুদ্ধিজীবীরা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আবেদন করেন তাঁরা। শান্তির বার্তা দেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, কবীর সুমন, শুভাপ্রসন্ন, সুবোধ সরকার, আবুল বাশার, জয় গোস্বামী, অভিরূপ সরকার, প্রতুল মুখোপাধ্যায়, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী প্রমুখ। অটুট ভারতের পক্ষে তাতে স্বাক্ষর করেছেন অনেকে। বিদ্বজ্জনদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে–

★দেশভাগে কোনও মতামত ছিল না দেশবাসীর। বাংলা ও পঞ্জাব বাদে গোটা দেশ ছিল অক্ষত। অথচ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে (CAB) আইন (CAA) বানিয়ে সেই দেশবাসীকেই নতুন করে আজ বিধ্বস্ত করতে চাইছে ব্রিটিশের এককালের সহযোগীরা! সংবিধানের সমানাধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতার বুনিয়াদকে ধূলিসাৎ করে একনায়কমুখী রাষ্ট্রর লক্ষ্যে আনা হয়েছে এই কালো আইন!

★বিগত ছয় বছরে দেশের অর্থনীতিকে দেউলিয়া করে, বাজার অগ্নিমূল্য করে, রেকর্ড বেকারত্ব তৈরি করে, নবরত্ন রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাগুলির সম্পদ ও কর্মীদের বিপন্ন করে এইবার সংবিধান ধ্বংস করার পথে উদ্যত হয়েছে কেন্দ্রীয় ফ্যাসিস্ট দল।

★দেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম জুড়ে বসবাস করা, চাষাবাদ, শ্রম বা চাকরি বৃত্তিতে যুক্ত থাকা ও দীর্ঘ দিন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সকল নাগরিকদের বেঘোর করার চক্রান্তের অঙ্গ হিসাবেই এই নয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা ক্যা (CAA)।

★১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে এই নয়া আইনের উদ্দেশ্য যে ধর্মের ভিত্তিতে দেশবাসীকে বিভক্ত করা, তা আজ সকলের কাছেই পরিষ্কার। ব্রিটিশের বিভেদনীতি ও সাভারকারের দ্বিজাতি তত্ত্বকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে এই সরকার।

★অর্থনৈতিক অসাফল্য, দেশজুড়ে লুণ্ঠন, খুন, ধর্ষণ ও বিচার ব্যবস্থায় রাহাজানি থেকে নজর ঘোরাতে আগুন নিয়ে খেলছে কেন্দ্র। গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চল জ্বলছে। আন্তর্জাতিক সফর বাতিল করছেন বিদেশী নেতৃবর্গ। উত্তর পূর্বাঞ্চলে সফর বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অগ্নিগর্ভ বাংলাও।

★বোঝাই যাচ্ছে, বাংলা তথা ভারতের সমস্ত নাগরিককে আসলে এনআরসি ও ক্যা-র মাধ্যমে বিপন্ন করে ব্যস্ত রাখা ও ব্ল্যাকমেইল করাই প্রধান লক্ষ্য। এই ঘৃণ্য, সাম্প্রদায়িক ও আইনসিদ্ধ সন্ত্রাসের তীব্র বিরোধিতা করছি আমরা। আমরা চাই, গোটা দেশ গণতান্ত্রিক পথে অহিংস, অসহযোগ আন্দোলনে সামিল হোক!

★একই সঙ্গে দেশের সমস্ত নির্বাচিত রাজ্য সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি, এই আইনবলে কোনও ফ্যাসিস্ট শক্তি যাতে দেশবাসীর ন্যূনতম ক্ষতি না করতে পারে, তা সুনিশ্চিত করুন!

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।