শংকর দাস, বালুরঘাট: গত দুইদিন ধরে দক্ষিণ দিনাজপুরের আত্রেয়ী, পুনর্ভবা ও টাঙন নতুন নদীর জল বেড়ে ফের বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে। পরিস্থিতি এমন যে ২০১৭ র ভয়াবহতাকে স্মরণ করিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। ইতিমধ্যেই জেলার বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুরে আত্রেয়ী ও পুনর্ভবার জল আশেপাশের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে ২০১৭র মত এবারেও বন্যা মোকাবিলায় আগাম তৎপরতা পুলিশ সুপারের। প্রশাসনের প্রতিনিধি ও অসহায়দের উদ্ধারে পুলিশ সুপার প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই নেমে পড়েছে পুলিশ। সকাল থেকে নৌক নিয়ে আত্রেয়ীর দুই পাড়ের কোন কোন এলাকার পরিস্থিতি বিপদ্দজনক তা পর্যালোচনা করছে।

আরও পড়ুন: ভোটে হেরে একুশে ‘লোক দেখানো’ চ্যালেঞ্জ সভাপতি অর্পিতার

নৌকো করে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এদিন আইপিএস প্রসূন ব্যানার্জি উত্তরের পতিরাম থেকে শুরু করে দক্ষিণে বাংলাদেশ সীমান্তের ফতেপুর পর্যন্ত নদীর দুই পাড়ের পর্যালোচনা করেন। শুধু পর্যালোচনায় নয় সাধারণ মানুষের মধ্যে সাহসও জুগিয়ে চলেছেন তিনি। জলবন্দী এলাকার বিশেষ করে মহিলা শিশু ও প্রবীণদের নিরাপত্তা ও উদ্ধারের জন্য হেল্পলাইনও চালু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে গেলে তাঁদের থাকা খাওয়া সমস্ত কিছুর ব্যাবস্থা থানাগুলিতেও রাখা হচ্ছে।

রবিবার রাত থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের সমস্ত নদীর জল বাড়তে শুরু করায় বেশ কিছু এলাকায় বহু বাড়ি জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার গভীর রাতে গঙ্গারামপুরে পুনর্ভবা নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বেলবাড়ি এলাকায় জল ঢুকে পড়েছে। এদিকে মঙ্গলবারও অন্যান্য নদীর মতো একই ভাবে আত্রেয়র জল বেড়ে চলায় বালুরঘাটের ডাঙ্গি ও পুরসভা এলাকায় নতুন করে বেশ কয়েকটি বাড়ি ডুবে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের জন্য ৬২০ কোটির ক্ষতি হয়েছে ভারতের

এদিনও জেলার পুনর্ভবা টাঙ্গন ও আত্রেয়ী তিনটি নদীর জলই বাড়তির মুখে থাকায় সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। কারণ দুই বছর আগেই বন্যার সামনা করেছে বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর সহ দক্ষিণ দিনাজপুরের সমস্ত এলাকার মানুষ। সেবারও জেলার বিভিন্ন ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পাশাপাশি আইপিএস প্রসূন ব্যানার্জির নেতৃত্বে পুলিশই ছিল অসহায় মানুষের একমাত্র উদ্ধার কর্তা। প্রত্যন্ত এলাকায় জলবন্দি মানুষজনকে পুলিশই নৌকো নিয়ে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছিল। এবারেও বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার নেওয়ার আগেই পুলিশ সুপারের এই তৎপরতায় কিছুটা হলেও সাধারণ মানুষ মনে বল পেয়েছেন।

এদিন আইপিএস প্রসূন ব্যানার্জি জানিয়েছেন যে ২০১৭র ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবারেও সাধারণ মানুষ বন্যা নিয়ে চরম আতংকের মধ্যে রয়েছেন। একদিকে যেমন বন্যাপরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কিভাবে অসহায় মানুষকে উদ্ধার করে কোথায় রাখা হবে তার ব্যবস্থা করা। সাধারণ মানুষকে বোঝানো যে যেকোন ধরণের পরিস্থিতিতে পুলিশ তাঁদের পাশে রয়েছে। আরেক দিকে নদীতে নেমে স্বচক্ষে পরিস্থিতি চাক্ষুস করে কোন কোন এলাকায় আরও সতর্কতা অবলম্বন দরকার সেব্যাপারে জেলাশাসকের নিকট রিপোর্ট পেশ করাও তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি এদিন তিনি সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আগাম প্রস্তুতির ব্যাপারে বিএসএফকেও অনুরোধ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।