স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: গোটা দেশ যখন হায়দরাবাদ পুলিশের এনকাউন্টার নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তখন মালদহ শিশু ধর্ষণ-খুন নিয়ে বিজেপি সাংসদের তোপের মুখে পড়ল জেলার পুলিশ সুপার। বাংলার মানুষের জন্য পুলিশ নয়। পুলিশ রয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। ঠিক এই ভাষায় মালদহের পুলিশ সুপারকে বিঁধলেন বিজেপির সাংসদ।

শনিবার মালদহ ধর্ষণ ও খুন কাণ্ড নিয়ে জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে যান বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু পুলিশ সুপার তার সঙ্গে দেখা না করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। শুধু তাই নয়, এই নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ঘরে ঢুকেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। দীর্ঘক্ষন ধরে চলে জেলা পুলিশের অফিসে বিজেপির এই বিক্ষোভ।

জেলা পুলিশ অফিসে চলা এদিনের বিক্ষোভ শেষে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ”পুলিশ সুপার হুমকি দিচ্ছেন উনি বলছেন আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে বাধ্য নয়। আমি দেখা করব না আপনার যা করবার করুন। ওই মহিলার জন্য আমরা সবাই এসেছি ওই মহিলার জন্য আপনার কাছে বিচার চাইতে এসেছি। আপনি তো কিছু বলুন, আপনি তো একটু দেখা করুন। আমি একজন সাংসদ আছি।”

তিনি আরও বলেন, ”সারাদেশ হায়দরাবাদ নিয়ে কাঁপছে। উন্নাও নিয়ে কাঁপছে। বাংলার মহিলারাও ভয়ে শঙ্কিত তারাও ভীত। আজকে এসপির এত বড় সাহস উনি মহিলাদের সঙ্গে দেখা করবেন না। বাংলার মহিলাদের জন্য পুলিশ না, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বাংলার পুলিশ রয়েছে। উনি একজন সাংসদের সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলেছেন, একজন সাধারন মহিলার কথা তো ছেড়েই দিন। আমরা বুঝে গেছি এখান থেকে আমরা কোনও বিচার পাব না। তাই আমাদের এই আন্দোলন চলবে। সারা বাংলা জুড়ে আমাদের আন্দোলন চলবে মালদহের নির্ভয়ার বিচার চাই।” লকেটের দাবি, হায়দরাবাদ যদি বিচার পেতে পারে তাহলে পশ্চিমবাংলা কেন পাবে না?

তিনি জানান, ”পশ্চিমবাংলা থেকে যাঁরা সাংসদ রয়েছেন তারা একবারও মুখ খুলছেন না কেন। কিসের জন্য মুখ খুলছেন না আজকে উন্নাও নিয়ে হায়দরাবাদ নিয়ে এত বড় বড় কথা ফাঁসি চাই, আইন করা হোক। তাহলে বাংলা নিয়ে মালদহ নিয়ে কেন একটাও শব্দ নয়। লজ্জা করে না মালদহ নিয়ে কথা বলতে এত ভয় পাচ্ছেন কেন। একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর রাজ্যে মহিলাদের কোনও সম্মান নেই। আর সাংসদরা মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে চলে। নিজের বাংলা কে দেখতে পারে না অন্য রাজ্য নিয়ে কথা বলছে।”

”একটি তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। লজ্জা করেনা। মৌসুম নূর এখানে রয়েছেন মহিলা কমিশনের ভাইস চেয়ারপার্সন একজন মহিলা হয়ে দেখতে যাইনি। লজ্জার কথা। তৃণমূলে নাম লিখিয়েছে বলে দেখতে যাইনি। উনি নিজেকে মহিলা ভাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী এখনও খুঁজছেন ধর্ষণ হয়েছে কি হয়নি। কিভাবে খুঁজবেন মেয়েটা তো মারা গিয়েছে। তাকে নিয়ে যা খুশি করতে পারি।” ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে এই মামলার দ্রুত বিচার প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন ওই সাংসদ।