কলকাতা: এবার পথে নামলেন বাংলার চিত্রশিল্পীরা। ছবিই হয়ে উঠল প্রতিবাদের ভাষা। মঙ্গলবার মেয়ো রোডে গান্ধি মূর্তির পাদদেশে আড়াই ফুট ক্যানভাসে NRC ও CAA-র বিরোধিতায় সামিল হলেন বাংলার সমসাময়িক চিত্রকরেরা। চিত্রকরদের প্রতিবাদে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে CAA-র প্রতিবাদে বাংলার বিদ্বজ্জনেরদের এক হতে দেখা গিয়েছে। তবে এবার শহরের রাস্তায় চিত্রশিল্পীরা।

ছবি আঁকতে এসে মমতা বলেন, “প্রাণের টানে, রঙের টানে, তুলির টানে প্রতিবাদ করতে এসেছি। আমাদের সবার একটাই কথা, মানুষে মানুষে বিভাজন করার আইন চলবে না। নো ক্যা, নো এনআরসি, নো এনপিআর। বিভিন্ন ভাবে এই আন্দোলন জারি রাখতে হবে। কখনও মিছিল, কখনও মিটিং, কখনও গান আবার কখনও ছবি এঁকে। মনে রাখবেন, রাস্তাতেই আমাদের থাকতে হবে।”

এদিন উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন। মমতার পাশে দাঁড়িয়ে ক্যানভাসে তুলি বোলালেন প্রখ্যাত চিত্রকর শুভাপ্রসন্ন। চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্নর কথায়, “এটা চিত্রকরদের সমবেত প্রতিবাদ। টুকরো টুকরো ক্যানভাসে ছবি আঁকছেন অনেকে। যারা প্রফেশনালি পেইন্টার তাঁদের মধ্যে অনেকেই আছেন।” এদিন তরুণ শিল্পীরাও অনেকে যোগ দিয়েছেন।

ধর্মের নামে নাগরিকত্ব চান না শিল্পীরা। এর আগে ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময় একত্র হয়ে ছবি এঁকেছিলেন চিত্রকরেরা। সেইসব ছবি পরে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে প্রদর্শিত হয় এবং নিলাম হয়। ছবির প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছিলেন সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। আর এবার শিল্পীদের সঙ্গে রং তুলি হাতে যোগ দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহের কথা সকলেরই জানা।

NRC এবং CAA-র বিরোধিতায় ইতিমধ্যেই পথে নেমেছেন অনেকে। সারা শহর ছেয়ে গিয়েছে পোস্টারে। এরই মধ্যে শিল্পীদের সমবেত প্রতিবাদ নানা মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যারা ছবি আঁকলেন তাঁদের ছবি আগামী দিনে কোথায় রাখা হবে বা সেইসব ছবি নিয়ে কোনও প্রদর্শনী হবে কিনা সে ব্যাপারে শিল্পীদের কাছ থেকে এখনও কিছু জানা যায়নি।