স্টাফ রিপোর্টার, বীরভূম: কয়েকদিন আগেই তিনি বিরোধীদের মেরে ঠ্যাং ভেঙে দেওয়ার জন্য দলীয় কর্মীদের নিদান দিয়েছিলেন৷ এবার বিরোধীদের শায়েস্তা করতে কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর নিদান- ‘‘বিরোধীরা চোখ রাঙালে  চোখ উপড়ে তুলে নিন৷ চোখ তুলে পাথরের চোখ বসিয়ে দিন৷ আমাদের কাছে অনেক পাথর আছে!’’

বক্তা, মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত প্রিয় তথা তৃণমূলের বীরভূমের দাপুটে জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল৷ শনিবার দুপুরে বীরভূমের মহম্মদ বাজারে দলের একটি কর্মী সভায় একথা বলেন তিনি৷ স্বভাবতই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠতে শুরু করেছে৷ সিউড়ি জেলা বামফ্রন্টের তরফে জানানো হয়েছে, অনুব্রত মণ্ডল বিরোধীদের উদ্দেশ্য লাগাতার হুমকি দিয়ে চলেছেন৷ অথচ পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে৷ তাই অনুব্রতর গ্রেফতারের দাবিতে ও পুলিশি নিস্ক্রিয়তার প্রতিবাদে ২০ নভেম্বর থেকে বীরভূম জেলা জুড়ে তাঁরা লাগাতার আন্দোলনে নামছেন৷

এদিন মহম্মদবাজারের সভায় অনুব্রত দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘‘পঞ্চায়েতে ভয় পাবেন না৷ কিভাবে ভোট করাতে হয়, আপনারা জানেন৷ বিরোধীশূন্য পঞ্চায়েত গড়ব আমরা৷’’ কয়েকদিন আগেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান ও সিপিএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বীরভূম সফর প্রসঙ্গে কর্মীদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় কেষ্টর পরামর্শ ছিল, ‘‘মেরে ওদের ঠ্যাং ভেঙে দিন৷’’ প্রশাসন, পুলিশ ও সর্বোপরি দলকে কার্যত বেপাত্তা করে কেষ্টর হুঁশিয়ারি ছিল, ‘কে আটকায়, সেটা দেখে নেব।’

এরপরই পুলিশ ও তৃণমূলকে ঠ্যাঙানোর হুমকি দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ পাল্টা বলেছিলেন, ‘‘প্রয়োজন হলে দিদির ছোট ছোট ভাইদের ঠেঙাব৷ প্রয়োজনে পুলিশ ভাইদেরও ঠেঙাব। পুলিশের কাজ শুধু ছবি তোলা, শুধু টাকা তোলা। তাই যেদিন প্যাঁদানি হবে, সেদিন একটাও মারও বাইরে পড়বে না৷’’ এরপর অনুব্রতকে আক্রমণ করেছিলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা ও জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ তারপর ফের অনুব্রতর হুমকি৷

প্রসঙ্গত, অনুব্রত মণ্ডলের হুমকি এই প্রথম নয়৷ গত পঞ্চায়েত ভোটের মুখে তিনি বিরোধীদের নমিনেশন জমা করতে না দেওয়ার জন্য দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ এমনকি পুলিশের গাড়িতে বোমা মারারও নিদান দিয়েছিলেন তিনি৷ বলেছিলেন, ‘‘প্রয়োজনে পুলিশের গাড়িতে বোমা মারুন৷’’

সেসময় রাজ্য জুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়েছিল৷ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, পুলিশকে হুমকি দেওয়ার পরও পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করছে না কেন? যদিও সেসময় অনুব্রতর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা ছিল, ‘‘কেষ্টর মাথায় অক্সিজেন কম চলে৷ ও অসুস্থ৷ তাই হয়তো ভুল বলে ফেলেছে৷’’

অনেক টালবাহানার পর পুলিশ মামলা করলেও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে ব্যর্থ হয় জেলা পুলিশ৷ ফলে আদালত থেকে বেকসুর খালাস হন তৃণমূলের দোর্দণ্ড প্রতাপ এই তৃণমূল নেতা৷ তারপরও থামেননি৷ বলেছিলেন- পঞ্চায়েত ভোটের দিন বিরোধীদের পিঠে চড়াম চড়াম করে ঢাক বাজবে৷

সম্প্রতি অনুব্রত মণ্ডল বনাম বিজেপির দিলীপ ঘোষের হুমকি পাল্টা হুমকির জেরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে- তবে কি বাংলা এবার ঠ্যাঙাবার রাজনীতিতে পরিণত হল? প্রশ্ন উঠেছে মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে থাকা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও৷ শাসকদলের হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ  কি আদৌ কোনও ব্যবস্থা নেবে? নাকি অতীতের প্রতিটি ঘটনার মতো এবারও অনুব্রত কাণ্ডে নীরব দর্শক হয়েই থাকবেন তাঁরা? সময়েই মিলবে এর সুদত্তর৷