স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ফের শিরোনামে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভাঙড়৷ সেখান থেকে তৃণমূল প্রার্থীকে বেশি ভোট লিড দিতে মরিয়া দলের স্থানীয় নেতারা৷ তাই কর্মী সভায় ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা ও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের হুমকি, ‘‘ভোটের দিন কোনও বুথে যেন বিরোধী এজেন্ট বসতে না পারে৷’’

শুক্রবার ভাঙড়ের ভোগালী ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি কর্মী সভার আয়োজন করা হয়৷ সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন ভাঙড়ের দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম৷ তার পাশে দাঁড়িয়ে এদিন তৃণমূল কর্মীদের হুমকির সুরে নির্দেশ দেন মোদ্দাসের হোসেন৷ যিনি ভোগালী ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান৷ তিনি এদিন কর্মীদের উদ্যেশ্য বলেন, এই অঞ্চলে কো‘‘কোনও মতেই যেন ভোটের দিন বুথে বিরোধী এজেন্ট না বসতে পারে৷ যেভাবে নির্দেশ দিচ্ছি সেভাবে কাজ চালিয়ে যাও৷ সিপিএম,বিজেপির দেওয়াল লিখন তো দূরের কথা, পোস্টারও যেন দিতে না পারে৷ ভোগালী ২ নম্বর থেকে মিমি চক্রবর্তীকে বেশি লিড দিতে হবে৷’’

কিছুদিন আগেই মোদ্দাসের হোসেন তাঁর পঞ্চায়েতে এলাকায় কৃষকদের মধ্যে সরকারি চেক বিলির সময় বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন৷ কৃষকদের বলেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীকে ভোট দিতে হবে৷ তৃণমূলকে ভোট না দিলে আগামী দিনে কৃষকদের দেখে নেওয়ারও হুশিয়ারি দেন৷ সেই নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল৷

সেই রেশ কাটতে না কাটতে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেতা মোদ্দাসের হোসেন৷ ভোটের দিন বুথে যাতে বিরোধী এজেন্ট বসতে না পারে সে কথার পাশাপাশি আরও বলেন, ‘‘আমি পঞ্চায়েতে থাকি তখন এসে বলে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী প্রকল্পে সই করে দাও৷ সেদিন যখন কাউকে ফিরাইনি৷ এখন ভোটের সময় চুপি চুপি বিরেধীদের ভোটটা দিয়ে আসবে তখন আর আদর করার সময় থাকবে না।’’

শুক্রবার বিকেলে শাসক দলের নেতার মুখে এই হুমকি শুনেই সরব হয় বিরোধীরা৷ কমিশনের কাছে মোদ্দাসের হোসেনের বিরুদ্ধে নালিশ জানানো হয়৷