স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: জমি মাফিয়াদের অত্যাচারে আঠারো দিন ধরে ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি। জানা গিয়েছে, তাঁরা এই মুহূর্তে ছেলে, পুত্রবধূ সহ নাতি-নাতনীদের নিয়ে সুবিচারের আশায় পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে ধর্নায় বসেছেন। সোমবার দুপুরের এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায় জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা।

জানা গিয়েছে,‌ খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ওই বৃদ্ধ দম্পতি ও তার পরিবারের লোকেদের ধর্না থেকে উঠে যাওয়া এবং দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসবাণী শোনানো হয় প্রশাসনের তরফে। সূত্রের খবর, কিন্তু তাতেও টলানো যায়নি অসহায় ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে। দীর্ঘক্ষণ পর পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়ার আশ্বাসেই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ান ওই বৃদ্ধ দম্পতি ও তার পরিবার। পুরো ঘটনাটি নিয়ে গাজোল থানার পুলিশকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , বৃদ্ধ দম্পতির নাম সুবল চন্দ্র দাস (৭০), দিপালী দাস (৬৫)। তাদের তিন ছেলে লোকরঞ্জন দাস (৪৪), শ্যামসুন্দর দাস (৪২) এবং তড়িৎ দাস (৪০)। তাদের স্ত্রী এবং নাবালক-নাবালিকা সন্তানেরাও রয়েছে। সকলকে নিয়েই ওই বৃদ্ধ দম্পতি এদিন মালদহের পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে রাস্তায় সুবিচারের আশায় ধর্নায় বসে পড়েন।

বৃদ্ধ সুবল চন্দ্র দাস পেশায় ব্যবসায়ী। গাজোল থানার করলাভিটা এলাকার জাতীয় সড়কের ধারে প্রায় ১৫ কাঠা জায়গার উপর বহুতল বাড়ি রয়েছে এই বৃদ্ধ দম্পতির। বাড়ির নিচে রয়েছে দুটি মেডিসিনের দোকান। সপরিবারে ছেলে, পুত্রবধূ ,নাতি , নাতনীদের নিয়ে ওই বাড়িতেই থাকেন বৃদ্ধ দম্পতি সুবল চন্দ্র দাস এবং দিপালীদেবী।

সুবলবাবুর আরও অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর ষষ্ঠীর দিন অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় দোকানপাট। সহ বাড়িতে লুটপাট চালায় তাঁরা । বন্দুক দেখিয়ে তাদের প্রাণে মারার কথা বলা হয়। ভয়ে ওই দিনই বাড়ি ছেড়ে পাশের গ্রামে এক আত্মীয়র বাড়িতে সপরিবারে আশ্রয় নেন তাঁরা। ৫ অক্টোবর এইব্যাপারে গাজোল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়.

পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে বলে জানা গিয়েছে। পরে মালদহের একটি মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হতেই পুলিশ চাপে পড়ে অভিযোগ নেই বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু গাজোল থানার পুলিশ প্রয়োজনীয় কোনও ব্যবস্থায় নেয়নি। ‘সেই থেকে এখনও পর্যন্ত লোকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে তাঁরা। নিজেদের বাড়িতে জমি মাফিয়াদের ভয় ফিরে যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন ওই অসহায় দম্পতি।

বৃদ্ধ দম্পতির বড় ছেলে লোকরঞ্জনবাবু বলেন, ‘রঞ্জিত সরকারের নেতৃত্বে আমাদের বাড়ি দখল করে নেওয়া হয়েছে’। তিনি আরও বলেন, ‘ওরা আমাদের বাড়ি দখল করে নিয়েছে’। ‘গাজোল থানার পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না’। সুবিচার না পেলে আমাদের আগামীতেও এইভাবে রাস্তায় বসে আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি ।

গণতান্ত্রিক আইন অধিকার রক্ষা কমিটির মালদার সম্পাদক জিষ্ণু রায়চৌধুরী বলেন, সম্ভ্রান্ত ওই পরিবারটি এখন অসহায়। আত্মীয়-পরিজনদের বাড়িতে ১৮ দিন ধরে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে। একটি পরিবার আর দুষ্কৃতীরা ওদের বাড়ি দখল করে তাণ্ডব চালাচ্ছে। পুলিশ ঘুমিয়ে আছে। এর থেকে দুঃখের আর কি হতে পারে। পুলিশ সুপারের সাথে এদিন দেখা করেছি‌ সমস্ত ঘটনার কথা জানিয়েছি। পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার । যদি না হয় তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলনে নামা হবে।

যদিও পুরো ঘটনাটি নিয়ে রীতিমতো অসন্তুষ্ট পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। কেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি ও তার পরিবার বাড়িছাড়া হয়ে রয়েছেন সেই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গাজোল থানার পুলিশকে‌ অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।