বর্ধমান: কাটোয়া রেলওয়ের পুরনো ব্রিজ ভেঙে ফেলার চুরান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে জেলা প্রশাসন এবং রেল দফতর৷ আগামী ২০ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে ভেঙে ফেলা হবে এই ব্রিজ৷ ফলে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে গোটা শহর জুড়েই৷

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে তৈরী কাটোয়া রেলওয়ে এই ওভারব্রিজটির অবস্থা সংকটজনক হয়ে পড়েছে৷ তাই এই পুরনো ব্রিজের পরিবর্তে নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়৷ একইসঙ্গে রেল দফতর ঘোষণা করে পুরনো এই ব্রিজকে ভেঙে ফেলা হবে৷ এ ব্যাপারে ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের বৈঠকও হয়৷ গত সেপ্টেম্বর মাসে মেদিনীপুরের বীরসিংহ থেকে নতুন রেলওয়ে ওভারব্রিজের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

সেদিন বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসাবে হাজির ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়৷ কিন্তু নতুন এই ব্রিজ উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই তার ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন৷ নতুন ব্রীজ দিয়ে কেবলমাত্র চার চাকার যানবাহনকেই যেতে দেওয়া হচ্ছে৷

অন্যদিকে পুরনো ব্রিজ দিয়েই তিন চাকা, দু চাকার যাবতীয় যানবাহন যাতায়াত করতে থাকে৷ জানা গিয়েছে, রেল দফতর পুরনো এই ব্রিজের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থায় থাকায় এই ব্রিজকে দ্রুত ভেঙে ফেলতে চাইছে প্রশাসন৷ কিন্তু সেক্ষেত্রে পুরনো এই ব্রিজ ভেঙে ফেলা হলে সাধারণ মানুষ কিভাবে যাতায়াত করবেন তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি বর্ধমান ষ্টেশন ভবনের একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার ঘটনায় এবং একজন মারা যাওয়ার ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে এই পুরনো ব্রিজটিকে ভেঙে ফেলার জন্য। এখনও সেই মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। রেলের এই শতাধিক বছরের পুরনো ভবন ভেঙে পড়ার ঘটনায় রেলের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন আমজনতা।

জানা গিয়েছে, প্রায় ৯০ বছরের পুরনো এই রেলওয়ে ব্রিজটি৷ তাই এবার রীতিমত চিন্তিত রেল কর্তৃপক্ষ। যদিও এই ব্রিজ ভাঙা হলে পরিবর্তে একটি ফুটব্রিজ তৈরী করার দাবি জানানো হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু এখনও সেই ব্যাপারে কোনো সবুজ সংকেত মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। তারই মাঝে এবার রেল কর্তৃপক্ষ এই পুরনো ব্রিজকে ভেঙে ফেলার জন্য উঠেপড়ে লাগায় চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

নতুন যে ব্রিজ সেখান দিয়ে কেবলমাত্র চার চাকার যানবাহন যাতায়াত করলেও বাকিরা কিভাবে যাতায়াত করবেন তা নিয়েই এবার চিন্তা বাড়তে শুরু করেছে। এই ব্যাপারে পুর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক জানিয়েছে্ন, রেল দফতর থেকে তাঁদের জানানো হয়েছে পুরনো এই ব্রিজের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। যে কোনো সময়ই বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটাও অসম্ভব নয়। তাই তাঁরা চাইছেন দ্রুত এই পুরনো ব্রিজকে ভেঙে ফেলতে। সেক্ষেত্রে বিকল্প কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা নিয়ে এখনও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়নি।

জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানিয়েছেন, এব্যাপারে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁরা বৈঠকে বসছেন। সেখানেই এব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এই বৈঠকে হাজির থাকবেন আরবিএনএলের চিফ জেনারেল ম্যানেজারও। জেলাশাসক জানিয়েছেন, সেক্ষেত্রে নতুন ব্রিজ দিয়ে কিভাবে বাকি যানবাহন যাতায়াত করবে এই বৈঠকের পরই সে ব্যাপারে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও