হাওড়া: রাস্তা ব্যবহার করা নিয়ে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ এবার হাওড়ায়। জানা গিয়েছে, রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বচসা বাঁধে ঐ যুবকের। পারিবারিক বিবাদ রুখতে গিয়ে অপমানিত হন তিনি। এই ঘটনার পরই ওই যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের দোতলা থেকে। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঐ এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম রবীন বর(২৫)। তাঁর বাড়ি লিলুয়ার কোন চৌধুরীপাড়ার পোল্ট্রি পুকুর এলাকায়। শনিবার সকালে জগদীশপুর হাটের একটি নির্মীয়মাণ বহুতল থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর মৃতদেহ। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে জনকে গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বাড়ির পিছনদিকে থাকা একটি নর্দমার উপর দিয়ে যাতায়াত করত। সেই যাতায়াত নিয়েই এলাকারই অন্য এক পরিবারের সঙ্গে তাঁদের বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। অভিযোগ, ওই রাস্তা দিয়ে শুক্রবার নিহত যুবকের মা যাচ্ছিলেন। সেই সময় অভিযুক্ত প্রতিবেশী তাঁর মাকে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রবীনও ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। এরপরেই লিলুয়া থানায় তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানায় প্রতিবেশী ঐ পরিবার। অভিযোগ পেয়ে সেদিনই রবীনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে পুলিশ তাঁকে মারধোর করে বলেও অভিযোগ। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত যুবকের দিদি তাকে থানা থেকে বাড়ি নিয়ে যায়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিদির সঙ্গে থানা থেকে বেরিয়ে হঠাৎই একটি টোটো এ উঠে পড়ে ওই যুবক। এরপর থেকে আর সে বাড়ি ফেরেনি। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে জগদীশপুর হাটের একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের দোতালায় তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় মানুষজন। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করার সময় তার পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট পায়। যে সুইসাইড নোটে তার মৃত্যুর জন্য এলাকার বাসিন্দাকে দায়ী করেছে নিহত যুবক। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। বাকি তিনজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।