ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: লোকসভা ভোটের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ততা বেড়েছে পুলিশের৷ এরই মাঝে বর্ধমান থানায় পুলিশ কাকু পুলিশ কাকু বলতে বলতে হাজির হয় বছর সাতের এক বাচ্চা মেয়ে৷ সে পুলিশ কাকুদের জানায় তার বাবা মা মারা গিয়েছে৷ তাকে এখন কাজ খুঁজে দিতে হবে৷ তার মুখ থেকে ওই কথা শুনে তো পুলিশ কর্মীরা সকলেই হতবাক৷ তার কথা শুনে তো কেউ বিশ্বাস হয়নি৷

এরপর তাঁরা ভুলিয়ে ওই বালিকাকে শান্ত করেন। আস্থা অর্জনের জন্য তাকে চকলেট ও মিষ্টি দেওয়া হয়। চেয়ারে বসিয়ে আদর করে তাকে মিষ্টি ও চকলেট খাওয়ানো হয়। তারই মধ্যে নানাভাবে কথা বলে আসল ঘটনা জানার চেষ্টা করেন পুলিশ কর্মীরা। প্রথমে অবশ্য মুখ খুলতে চায়নি খুদে মেয়েটি। পরে সে সব কথা খুলে বলে। পুলিশকে সে জানায়, বাবা-মা বাড়িতে আছেন। কিন্তু তাঁরা বকাবকি করেছেন। সে জন্য বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে সে থানায় নালিশ জানাতে এসেছে।

আসল কথা জানার পর বিস্ময় কাটে পুলিশ কর্মীদের। ভাব জমিয়ে বালিকার কাছ থেকে তার বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর জেনে নেয় তাঁরা। তারপর তার বাবা-মাকে ফোন করে থানায় আসতে বলেন৷ মেয়েটির বাবা বাইরে থাকায় আসতে পারেননি। পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে ওই বালিকার মা থানায় আসেন। মেয়েকে থানায় দেখে তিনি কাঁদতে শুরু করেন।

বর্ধমান থানার আইসি ওই বালিকার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার কথা তাঁর কাছ থেকে শোনেন। তারপর মুচলেকা দিয়ে মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান মা। থানার এক অফিসার বলেন, ওই বালিকার বাড়ি শহরের গোলাপবাগ এলাকায়। সে শহরের একটি ইংরাজি মাধ্যম স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

এদিন সকালে সে কিছু কিনে দেওয়ার জন্য বলে। কিন্তু বাড়ি থেকে তা কিনে দেওয়া হয়নি। তাকে নিজে কাজ করে জিনিস কেনার কথা বলা হয়। তার থেকেই অভিমানে মেয়েটি থানায় এসে বাবা-মায়ের নামে নালিশ জানাতে চায়। ওইটুকু বাচ্চা মেয়ে প্রথমে বাবা-মা নেই বলেছিল। এটা খুবই ভাবনার বিষয়। এতটুকু মেয়ে জিনিস না কিনে দেওয়ায় থানায় এসে মিথ্যা কথা বলে বাবা-মায়ের নামে নালিশ করতে আসছে।

মেয়েটি জিনিস না পেয়ে হয়ত আঘাত পেয়েছে। তবে তার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে আসবে এটা ভাবা যায় না। মেয়েটির মা অবশ্য ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি।