সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : পয়লা বৈশাখের বাজার মার খেয়েছে আগেই। দেশ জুড়ে করোনার হামলা। কিন্তু এর বাইরেও জগৎ আছে। ইতিহাস আছে। ভারতের মাটিতে মৈরাং-এ প্রথমবার আজাদির ঝাণ্ডা উড়েছিল। সৌজন্যে নেতাজী এবং সেই ‘ব্যাটল অফ কোহিমা’। এবং নেতাজী এবং তার আজাদি সেনা যাতে কলকাতা দখল না করতে পারে তার জন্য নবনির্মিত হাওড়া ব্রিজের তলায় বসানো হয়েছিল ডিনামাইট। অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।

কিন্তু কোথায় কোহিমা , কোথায় কলকাতা। এমন প্রশ্ন মাথায় এলেও বাস্তব সম্পূর্ণ আলাদা। সব যেন একই রেখায় বাঁধা। কোহিমা ইম্ফলের উত্তরে। যোগাযোগের একটি মাত্র রাস্তা। তার আগে পয়লা মার্চ, ১৯৪৪ আজাদ হিন্দের দখলে সেটাকিন, ৫ মার্চ কালাদিন, ৮ মার্চ ফোর্ট হোয়াইট। তারপর সেই ১৮/১৯ মার্চ ১৯৪৪ মধ্যরাত। বাধভাঙ্গা উচ্ছাস নিয়ে সেলিম মালিক, গীল, চ্যাটার্জী, থ্রেবর ‘স্বাধীন’ ভারতের মাটিতে পা রাখেন।


১৯৪৪ মাঝ রাতে আজাদি সেনারা পাহাড় ডিঙিয়ে প্রবেশ করেন সেখানে। ২২শে মার্চ জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন ভারতে জাপানি সেনা ঢুকবেনা। ৮ই এপ্রিল কোহিমায় তেরঙ্গা ঝান্ডা তুললেন কর্নেল ঠাকুর সিং। সঙ্গী বারহানুদ্দিন,প্রীতম সিং,রামস্বরুপ। যে নাগারা আজও নিজেদের ভারতীয় বলে পরিচয় দেয় না সেই নাগারা দলে দলে আজাদিতে যোগ দেয়। আর এটাই ব্রিটিশদের সবথেকে বড় সমস্যার কারণ হয়ে যায় মৈরাং নিজেদের দখলে রাখতে। তারা ভেবেছিল স্থানীয়দের সাহায্য পাবে। পায়নি। উলটে স্থানীয়দের ঘরে নিশ্চিন্তে ঘাঁটি বেঁধেছিল নেতাজীর আজাদা হিন্দ সেনা। এবার যাত্রা দক্ষিণ দিকে। সেদিকেই তো মৈরাং। প্রচন্ড লড়াইয়ের পর মৈরাং বৃটিশ বাহিনীর হাতছাড়া হয়। ১৪ এপ্রিল ১৯৪৪ এ কর্নেল সেলিম আলি মালিক তেরঙ্গা ঝান্ডা উত্তোলন করেন মৈরাং-এর বুকে আজকের তারিখে। এরপর ব্রিটিশদের আরও কোণঠাসা করতে শুরু করে নেতাজীর সেনা। ব্রিটিশরা তাদের হারের খবর আটকাতে নেতাজীকে আটকাতে সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছিল। যাতায়াত বন্ধ। পূর্ব ভারতে লিফলেট ছড়াতে চেয়েছিলেন সেটাও পাননি।

এদিকে ততক্ষনে নেতাজী ভারতে ঢুকলে কি হবে তা বুঝে গিয়েছে ব্রিটিশ। হু হু করে এগোচ্ছে নেতাজীর ‘ইন্ডিয়ান আর্মি’। ব্রিটিশের প্রানান্তকর অবস্থা। তারা আঁচ করছিল কলকাতাও যায় যায়। কলকাতা গেলে তাদের ঘাঁটি গাড়তে হবে রাঁচিতে। সেখানেও তারা থাকতে পারবে কিনা সন্দেহ, তাই আগেই রাঁচি পালানোর তোড়জোর শুরু করে দেয় ব্রিটিশ সেনা। এদিকে ইম্ফল পাহাড় থেকে শিলচর। তারপরেই বঙ্গভুমি। দ্রুত এগোচ্ছেন নেতাজী। ভয়েতে ডিনামাইট বসিয়েছিল হাওড়া ব্রীজ ধ্বংস করার জন্য। সবই যোগাযোগ ধ্বংস করার চেষ্টা।

এত বড় যুদ্ধ জিতেও সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় অর্থ , অস্ত্র। তিন মাস সেখানে রাজ করে। তারপরে আর ধরে রাখতে পারা যায়নি। সমস্যার যেমন ছিল অর্থ তেমন খাদ্য, ততটাই বিপক্ষে গিয়েছিল আবহাওয়া, জোঁক, ম্যালেরিয়ার প্রকোপ , জনা চারেক আজাদা সেনার বিশ্বাস ঘাতকতা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরে যাওয়া।

তথ্যসূত্র : অরনিবাস গুপ্ত ও লেফ্টেনান্ট জানকি থিবার্স-এর ‘বিদ্রোহী কন্যার রোজ নামচা’ বই

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।