তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: মারন ভাইরাস ‘কোভিড ১৯’ বা ‘করোনা’র জেরে সতর্কতা হিসেবে সারা দেশে চলছে ২১ দিনের ‘লকডাউন’। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধ ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য চালু থাকলেও অন্যান্য দোকানে বিকিকিনি সম্পূর্ণ বন্ধ। আর এই অবস্থায় চরম সমস্যায় পড়েছেন বাঁকুড়ার বাগাতাপল গ্রামের গ্রামের শতাধিক দুধ ব্যবসায়ী।

এই গ্রামে প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ ক্যুইন্ট্যাল দুধ উৎপাদিত হয়। সেই দুধ থেকে ছানা তৈরি করে জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশের জেলাগুলিতে এত দিন সরবরাহ করা হতো। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিষ্টির দোকানগুলি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় চরম ক্ষতির মুখে এই গ্রামের ছানা ব্যবসায়ীরা। গ্রামের সিংহভাগ মানুষের রুটি রুজির অন্যতম উপায় বাড়িতে উৎপাদিত দুধ থেকে ছানা তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করা।

কিন্তু করোনার জেরে বাজারে মিষ্টির দোকান বন্ধ। ফলে প্রতিদিন প্রায় দু’লক্ষ টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। পুরো গ্রামে উৎপাদিত প্রায় ২০ ক্যুইন্ট্যাল দুধ।। এই অবস্থায় এই চরম দুর্দিনে গৃহপালিত গবাদি পশুগুলিকে কিভাবে প্রয়োজনীয় খাবার দেবেন আর নিজেদের প্রাত্যহিক সংসার খরচ চালাবেন ভেবে পাচ্ছেননা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

দুধ থেকে ছানা তৈরি করে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করেন বাগাতাপল গ্রামের দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, বাঁকুড়া সহ পুরুলিয়ার বিভিন্ন বাজারে আমরা প্রায় ৬০ জন ছানা সরবরাহ করি। বর্তমান সময়ে সব কটি দোকান বন্ধ। এই অবস্থায় গ্রামে উৎপাদিত সমস্ত দুধটাই পুকুরের জলে ফেলে ফেলে দিতে হচ্ছে।এই মুহূর্তে সরকারি সাহায্য ছাড়া তাদের আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। আর তা যদি না হয় আত্মহত্যা ছাড়া কোনও পথ খোলা নেই বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।

ছানা ব্যবসায়ী চিত্ত ঘোষের দাবি, সম্মিলীত গ্রামবাসীদের প্রতিদিন দু’লক্ষ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। মিষ্টির দোকানগুলি বন্ধ থাকার কারণে ছানার কোনও চাহিদা নেই। ফলে উৎপাদিত দুধ পুকুরের জলে ফেলে দেওয়া ছাড়া কোনও বিকল্প পথ তাদের সামনে খোলা নেই। এই অবস্থায় সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।