সুমন আদক, হাওড়া: মুখোশেই আড়ালেই লুকিয়ে রয়ছে বাংলার সংস্কৃতি। এমনটাই যেন বার্তা দিতে চাইছে হাওড়ার ১৭৫ বছরের পুরনো ক্লাব উত্তর খুড়ুট। ৭৮তম শারদৎসবে তাঁদের মণ্ডপ সাজবে বাংলার মুখোশ দিয়ে। চমকটা শুরু হয়েছিল কয়েক বছর আগেই। গতানুগতিক সাবেকি পুজো থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছিল থিম পুজো। যার মাধ্যমে সমাজকে কোনও না কোনও বার্তা পৌঁছে দেওয়া গিয়েছিল। কখনও সমুদ্র দূষণের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়া, কখনও বার্তা বৃক্ষ ছেদনের বিরুদ্ধে। এভাবেই এগিয়ে চলা শুরু। এ বছর উত্তর খুরুট বারওয়ারির থিম মুখোশ।

আরও পড়ুন: পুজোয় কাশ্মীরে ভিড় বাড়াচ্ছেন বাঙালি পর্যটকেরা

মধ্য হাওড়ার ১৭৫ বছরের প্রাচীন এই ক্লাবের পুজোর বয়স ৭৮ ছুঁয়েছে। বাংলার মুখোশ দিয়ে সেজে উঠছে উত্তর খুরুটের পুজো মন্ডপ। পুরুলিয়ার বাগমুন্ডী গ্রামের শিল্পীরা অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি করছেন এই মুখোশ। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের মুখোশ থাকছে এদের মন্ডপে। ক্লাব সদস্য অর্ণব হাজরা বলেন, “বাংলার সংস্কৃতিকে বাঁচানোর প্রয়াস নিয়ে এবার আমরা পৌঁছে গিয়েছি লালমাটির গ্রামে। পুরুলিয়ার বিখ্যাত ছৌ নাচে যে রকম মুখোশ পড়ে শিল্পীরা নৃত্য প্রদর্শন করেন সেই মুখোশই তৈরি করা হচ্ছে মন্ডপে সাজানোর জন্য। ওখানকার কারিগররাই তৈরি করছেন এই মুখোশ।”

গোটা মন্ডপ জুড়ে থাকছে প্রায় আড়াইশোর বেশি মুখোশ। যার বেশিরভাগটাই ছৌ নাচের সাজ দিয়ে গড়া হচ্ছে। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের মুখোশ আনা হচ্ছে। মূলত ছৌ শিল্পীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আসেন। তাঁরা তাঁদের সংস্কৃতি তুলে ধরেন। কিন্তু সেই সাজপোশাক যাঁরা তৈরি করেন, সেই মুখোশ যাঁরা তৈরি করেন সেই প্রত্যন্ত গ্রামের শিল্পীরা কিন্তু নেপথ্যেই থেকে যান। তাই তাঁদের শিল্পকর্ম তুলে ধরতে আমরা থিম হিসেবে মুখোশকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্ণববাবু। পুরো মণ্ডপটাই তৈরি করছেন বারোওয়ারির সদস্যরা। প্রতিমা সাবেকি হলেও থিমের সঙ্গে মানিয়ে দেবীর সাজপোশাক থেকে অলঙ্কার সবেতেই অভিনবত্ব থাকছে।

আরও পড়ুন: এই পুজোয় কি কি ছবি মুক্তি পাচ্ছে, দেখে নিন এক ঝলকে

ক্লাবের পুজো উদ্যোক্তা বিশাল গুপ্ত জানিয়েছেন, “পুজোর বাজেট প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। পুজোর উদ্বোধন থেকে নিরঞ্জন সবেতেই থাকছে চমক।” বিশালবাবু কথায়, মন্ডপে থিমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রতীকী হিসেবে আরেকটি দূর্গা ছৌ সাজের আদলে থাকছে।” এছাড়াও সমাজ সচেতনতার বার্তা দিয়ে আমরা মন্ডপের বাইরে হাওড়া সিটি পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফের প্রচার করতে উদ্যোগী হয়েছে ক্লাব। পুজোর আনন্দ যাতে কারও নিরানন্দের কারণ হয়ে না দাঁড়ায় তার জন্য সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়েছে।