সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ব্রতচারী হয়ে দেখ জীবনের কি মজা ভাই, হয়নি ব্রতচারী যে সে আহা কি বেচারীটাই’। স্কুলে প্রার্থনার লাইনে কিংবা ব্রতচারী পিরিয়ডে এই গান গুলির কথা মনে পড়ে? এখন কতজন জানে এই ব্রতচারী বিষয়টি তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে ওই ব্রতচারীও এক আন্দোলন, যার স্রষ্টা গুরুসদয় দত্ত।

ব্রিটিশ শাসিত ভারতে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয় চেতনা ও নাগরিকত্ববোধ তৈরি করা ছিল ব্রতচারী নামক আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। ১৯৩২ সালে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। সৃষ্টিকর্তা গুরুসদয় দত্ত। মূলত মানুষকে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক দিক দিয়ে উন্নত করতে তৈরি হয়েছিল এই আন্দোলন।

বাংলা ব্রতচারী সমিতির মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। এর মূল কার্যালয় ছিল কলকাতার ১২ নম্বর লাউডন স্ট্রিটে। পরে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এর শাখা গড়ে উঠেছিল। এই সমিতির উদ্যোগে একটি পত্রিকাও প্রকাশিত হয়েছিল। নাম ‘বাংলার শক্তি’। যা তৈরি হয়েছিল ১৯৩৬ সালে। শুধু বাংলা বা ভারত নয়। ইউরোপে এই আন্দোলন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

ব্রতচারী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জ্ঞান, শ্রম, সত্য, ঐক্য ও আনন্দের সাথে জীবনযাপনের পথপ্রদর্শন করা। সোজা কথায় জীবনযাত্রাকে সঠিক পথে চালনা করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। ঐক্যবদ্ধভাবে লোকনৃত্য ও লোকসঙ্গীত চর্চার মাধ্যমে মানসিক ও আত্মিক বিকাশ লাভ করানো ছিল এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

গুরুসদয়ের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল সিলেটের এক স্থানীয় স্কুলে। পরে পড়তে যান ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেন। আসাম থেকে প্রথম জন হন। ১৯০১ সালে এফ. এ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯০৪ সালে তিনি আই. সি. এস পরীক্ষায় সপ্তম স্থান অধিকার করেন।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাশাপাশি বহু বিখ্যাত মানুষ এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। গুরুসদয় দত্ত অনেক বইও লিখেছিলেন। তার রচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই ব্রতচারী সখা , ব্রতচারী সিন্থেসিস, ব্রতচারী পরিচয় ,বই ভজার বাঁশি (১৯২২), পাগলামির পুঁথি (১৯২৮) পুরীর মাহাত্ম্য (১৯২৮) গানের সাজি (১৯৩১) বাংলার সামরিক ক্রীড়া (১৯৩১) গোড়ায় গলদ (১৯২৬), গ্রামের কাজের ক খ গ (১৯২৮), সরোজনলিনী (১৯২৮), পল্লী সংস্কার ও সংগঠন (১৯২৮) পটুয়া (১৯৩২)।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.