সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘এক জন লোক ভারী ভোলা ছিল’ সে বাইরে থেকে ঘুরে এসে তার হাতের লাঠিটি বিছানায় শুইয়ে নিজে দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ে পরে ঘরের কোনে। শিশু সাহিত্যের অন্যতম পরিচিত গল্প। এমনই ভুলো মানুষ ছিলেন বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর। তিনি জলাতঙ্কের মতো মারাত্মক রোগের টীকা আবিষ্কার করে বাঁচালেন লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন। কিন্তু নিজের জীবনে যখন নতুন ইনিংস শুরুর পথে তখন বিয়ের কথাটাই তিনি ভুলে গেলেন।

অনেক বিখ্যাত মানুষের এমন ‘পাগলামি’-র গল্প ঘুরে বেড়ায়। আইনস্টাইন নিজের বাড়ির রাস্তা ভুলে গিয়েছিলেন। শেষে বাড়ির পরিচারককে ফোন করে জানতে হয় বাড়ির ঠিকানা। ইনজামাম উল হক, বিখ্যাত পাক ব্যাটসম্যান ১৯৯২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যাচে ব্যাট করতে নামার আগে এমন ঘুমিয়েছিলেন যে চিন্তায় মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল অধিনায়ক ইমরান খানের। বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস নিজের আবিস্কারের আনন্দে রাস্তায় ছুটে বেড়ালেন। এদিকে মনেই ছিল তার শরীরে বিশেষ জামা কাপড় নেই। তেমনই লুই পাস্তুর। বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন নিজের বিয়ের কথা। ব্যস্ত ছিলেন আপন গবেষণায়।

 

ঘটনা কেমন ? লুই পাস্তুরের যেদিন বিয়ে হওয়ার কথা সেদিন সকাল থেকেই তাঁকে খুঁজেই পাওয়া যায় না। এদিকে ‘লগ্ন’ বয়ে যায় যায়। বিয়েরস্থলে আত্মীয় পরিজন দেখে বর ও কণে পক্ষ উভয়েই উপস্থিত। কিন্তু পাত্রের দেখা নেই। সকলেই উদ্বিগ্ন। পাত্রী মেরীর চোখেমুখে ভয়ের ছাপ।

পড়ুন: লোকসভায় পাশ ঐতিহাসিক তিন তালাক বিল

শেষে বিজ্ঞানীর বন্ধুরা তাঁকে খুঁজতে বেরোন। বহু খুঁজেও যখন পাওয়া যায় না, তখন এক বন্ধু চলে যান ইউনিভার্সিটির ল্যাবরেটরিতে। সেখান গিয়ে তিনি দেখলেন, পাস্তুর তখন সেখানেই গবেষণায় ব্যস্ত। দুনিয়া রসাতলে যায় যায়, বিজ্ঞানী রয়েছেন আপন খেয়ালে। মাথায় একেবারেই নেই যে সেই দিনেই তাঁর বিয়ে। বন্ধুর ডাকে শেষ পর্যন্ত সব মনে পড়ে। তাড়াতাড়ি কোট গায়ে জড়িয়েই দৌড়। বিয়ের লাইনে পাখা পড়া থেকে কোনওমতে রক্ষা।

বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে পাস্তুরের প্রিয় বিষয় ছিল রসায়ন। তিনি স্ট্রাসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক পদে অধ্যাপনা আরম্ভ করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ছিলেন লরেস্ট। তাঁর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতে হত তাঁকে। যাতায়াতের মাঝেই শুরু হয় রেক্টরের ছোট মেয়ে মেরির সঙ্গে প্রেম পর্ব। রেক্টরের কাছে তাঁর মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন পাস্তুর। লরেন্টও সম্মতি দিতে দেরী করেননি।

প্রেমে পড়ে যাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন তাঁর কথাই ভুলে গিয়েছিলেন বেমালুম। নিজের বিয়ের তারিখ ভুলে যাওয়া মানুষটির হাত ধরেই এসেছে ভয়াবহ জলাতঙ্কের টীকা। এই বিবাহই ‘ভুলো’ পাস্তুরের জীবনকে আনন্দের করে তুলেছিল। মেরিই ছিলেন পাস্তুরের যোগ্য সহচরী। স্বামীর সর্বকাজে আজীবন তিনি সাহায্য করে গিয়েছেন।