তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: প্রায় শিল্পবিহীন বাঁকুড়া জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল আলু। এই জেলায় ধানের পর সবচেয়ে বেশী উৎপাদিত হয় আলু। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এবছর অতিরিক্ত কুয়াশা ও আলুর বীজের সমস্যার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন একটা বড় অংশের আলু চাষী। এমনকি নিম্নমানের বীজ সরবরাহের কারণে আলু গাছ মরে যেতে শুরু করেছে।

বাঁকুড়া-১ ও ২, জয়পুর, কোতুলপুর, ইন্দাস, পাত্রসায়রের পাশাপাশি দক্ষিণের সিমলাপাল, রাইপুর, সারেঙ্গা ও তালডাংরার একটা বড় অংশে আলু চাষ হয়। বেশীরভাগ আলু চাষীই ধার দেনা করে চাষ করেন। কিন্তু চলতি বছরে আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অনেক চাষীই।

বাঁকুড়া-২ ব্লক এলাকার আলু চাষী তপন ভুঁইয়্যা, উত্তম মাজিরা বলেন, ধারদেনা করে আলু চাষ করেছিলাম। এক দিকে প্রচণ্ড কুয়াশা, অন্যদিকে পাঞ্জাব থেকে আসা আলু বীজের গুণগতমান খারাপ থাকায় ফলন আশানুরুপ হবে না। এই অবস্থায় ধারদেনা করে আলু চাষ করে সেই ধার কি করে শোধ হবে ভেবে পাচ্ছেন না বলে তারা জানান।

অন্যদিকে, জয়পুর এলাকার চাষী সোমেন পাল বলেন, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ধান বিক্রি করে আলু চাষ করেছিলাম। পাঞ্জাব থেকে আসা আলু বীজ এতটাই নিম্নমানের যে ফসল উৎপন্ন হওয়ার আগেই গাছ মরে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আলু চাষ করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে আত্মহত্যা করা ছাড়া তাঁদের সামনে কোনও পথ খোলা নেই বলে তিনি জানান। আর এক আলু চাষী প্রণয় দে’র কথায়, ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা প্যাকেট পিছু দাম দিয়ে পাঞ্জাবের আলু বীজ কিনে পাঁচ বিঘা জমিতে চাষ করেছিলাম। গাছে প্রথমবার সেচ দেওয়ার পর সেই গাছ পচতে শুরু করেছে। ব্যাপক ক্ষতির হাত চাষীদের বাঁচাতে প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়াক। এমনই দাবী জানিয়েছেন তিনিও।

জেলা কৃষি অধিকর্তা সুশান্ত মহাপাত্র এই বিষয়ে বলেন, বৃষ্টি শুরুর আগে কুয়াশা থাকায় আলু চাষে নাবী ধসা রোগ দেখা গেছে। জ্যোতি ও পোখরাজ এই দুই প্রজাতির আলু চাষ এই জেলায় বেশী হয়। কিন্তু এই মুহূর্তে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় নাবী ধসা রোগের বিস্তার কিছুটা হলেও কমেছে। জেলায় ৫২ থেকে ৫৫ হাজার হেক্টর আলু রোপনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এই মুহূর্তে জেলায় ৫০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। চাষীদের নিম্নমানের আলু বীজ সরবরাহের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত কৃষি দফতরে ঐ ধরণের লিখিত বা মৌখিক কোনও ধরণের অভিযোগ আসেনি। তবে বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আলুর দাম যথেষ্ট উর্দ্ধমুখী। তবে কিছু দিনের মধ্যে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.