কলকাতা : আজ শুরু হল ১৪২৭ বঙ্গাব্দ। এই বঙ্গাব্দের সূচনা সম্পর্কে ২টি মত চালু আছে। প্রথম মত অনুযায়ী – প্রাচীন বঙ্গদেশের (গৌড়) রাজা শশাঙ্ক (রাজত্বকাল আনুমানিক ৫৯০-৬২৫ খ্রীস্টপূর্ব) বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন। সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে শশাঙ্ক বঙ্গদেশের রাজচক্রবর্তী রাজা ছিলেন। আধুনিক বঙ্গ, বিহার এলাকা তার সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল৷

অনুমান করা হয় যে, জুলীয় বর্ষপঞ্জীর বৃহস্পতিবার ১৮ মার্চ ৫৯৪ এবং গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর শনিবার ২০ মার্চ ৫৯৪ বঙ্গাব্দের সূচনা হয়েছিল। দ্বিতীয় মত অনুসারে, ইসলামী শাসনামলে হিজরী পঞ্জিকা অনুসারেই সকল কাজকর্ম পরিচালিত হত। মূল হিজরী পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরের চেয়ে ১১,১২ দিন কম হয়। কারণ সৌর বৎসর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিন।

এই কারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না। আর বঙ্গদেশে চাষাবাদ ও এজাতীয় অনেক কাজ ঋতুনির্ভর। এজন্য মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে প্রচলিত হিজরী চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এই বোশেখ, জষ্টি, আষাঢ় কীভাবে এল এসব নাম?

বাংলায় আমরা মাসগুলোর যে নাম ব্যবহার করি তা এসেছে মূলত: জ্যোতিষশ্রাস্ত্র থেকে। প্রতিটি নাম এসেছে নক্ষত্রের নাম থেকে। চাঁদ পৃথিবীকে বছরে ১২ বার প্রদক্ষিণ করে। চাঁদের এই আবর্তন থেকেই মানুষ মাসের ধারণা গ্রহণ করেছে। এই ১২ বার প্রদক্ষিণের পথে ২৭টি নক্ষত্রের সাথে চাঁদের সাক্ষাৎ হয়।

বাংলা মাসের ক্ষেত্রে মূলত: যে নক্ষত্র মণ্ডলে ঢোকার পর চাঁদ পূর্ণিমা দেখায় সেই নক্ষত্রের নামেই ঐ মাসের নাম রাখা হয়েছে। সেই হিসাবে বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ, জ্যেষ্ঠা নক্ষত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়া নক্ষত্র থেকে আষাঢ়, শ্রবণা নক্ষত্র থেকে শ্রাবণ, পূর্বভাদ্রপদা নক্ষত্র থেকে ভাদ্র, অশ্বিনী নক্ষত্র থেকে আশ্বিন, কৃত্তিকা নক্ষত্র থেকে কার্তিক, মার্গশীর্ষ মাস( পূর্বে বৎসরের প্রথম মাস রূপে গণ্য করা হত, অগ্র + হায়ন) থেকে অগ্রহায়ণ, পুষ্যা বা পৌষী থেকে পৌষ, মঘা নক্ষত্র থেকে মাঘ, ফল্গুনী নক্ষত্র থেকে ফাল্গুন এবং চিত্রা নক্ষত্র থেকে চৈত্র।

বাংলা সন অন্যান্য সনের মতনই ৭ দিনকে গ্রহণ করেছে এবং দিনের নামগুলো সনের মতোই গ্রহ তারকামন্ডলীর উপর ভিত্তি করেই করা হয়েছে। রবিবার – সূর্যে র নামানুসারে, সোমবার – চন্দ্রে র নামানুসারে। মঙ্গলবার – মঙ্গলে র নামানুসারে। বুধবার – বুধের নামানুসারে। বৃহস্পতিবার – বৃহস্পতির নামানুসারে। শুক্রবার – শুক্রে র নামানুসারে। শনিবার – শনির নামানুসারে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।