এই প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ শুভজিৎ রায় চৌধুরীর, অনুলিখন সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

শুভজিৎ রায় চৌধুরী ও সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : পবিত্র রথযাত্রা, বঙ্গের বিভিন্ন প্রাচীন মন্দিরে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব পালিত হয় এবং মন্দিরের সাথে সাথে বিভিন্ন বনেদিবাড়িতেও এই উৎসব পালিত হয় সঙ্গে থাকে কাঠামোপুজো। আজকের দিনে এই কাঠামোপুজোর মাধ্যমে শারদীয়ার শুভ সূচনা ঘটে। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে বহু বনেদিবাড়িতে কাঠামোপুজো হয়। দুর্গাপুজোর সূচনা হয় এই কাঠামোপুজোর দিন থেকে সেই কিছু বাড়ির সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরলাম।

শোভাবাজার রাজবাড়ি : এই বছরে রথ ও অম্বুবাচী একদিনে পড়লেও এই রাজ বাড়ির দুই তরফেই পুজোর ঢাকে কাঠি পর গেল। হয়েছে কাঠামো পুজো। পরিবারের সদস্যরা জানালেন , অনেক মত থাকলেও তাঁদের কূল পুরোহিত জানিয়ে দেন অম্বুবাচী থাকলেও তাতে কাঠামো পুজোয় কোনও বাধা হবে না। তাই নিয়ম মেনেই এদিন শোভাবাজার রাজবাড়ির বড় ও ছোট হল কাঠামো পুজো।

দর্জিপাড়া মিত্রবাড়ি : এই বাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা হয় রথের দিন কাঠামোপুজোর মাধ্যমে। দর্জিপাড়া মিত্রবাড়ি বলতেই সবাই একডাকে চেনেন নীলমণি মিত্রের বাড়ি হিসাবে। নীলমণি মিত্রের নাতি রাধাকৃষ্ণ মিত্র এই দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। এই বাড়ির পুজো হয় বৃহৎনান্দীকেশ্বর পুরাণ মতে, ঠাকুরের চালচিত্র হয় মটচৌরির আদলে। ষষ্ঠীর দিন কুলদেবতা শ্রীশ্রীরাজরাজেশ্বরকে সাক্ষী রেখে পুজো শুরু হয়। বিশেষ বৈশিষ্ট্য এই বাড়ির সন্ধিপূজাতে ১০৮পদ্মের পরিবর্তে ১০৮অপরাজিতা নিবেদন করা হয়।

জোড়াসাঁকোর দাঁ পরিবার : এই বাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনাও হয় রথের দিন কাঠামোপুজোর মাধ্যমে। এমন প্রবাদ রয়েছে দেবী এই দাঁ বাড়িতেই আসেন গয়না পরতে, এই বাড়ির পুজোর প্রতিষ্ঠাতা গোকুলচন্দ্র দাঁ ১৮৪০সালে। পরিবারের বংশধর শিবকৃষ্ণ দাঁ জার্মানি আর প্যারিস থেকে হীরে, এমারেল্ড জুয়েলারি আর একচালার চালচিত্র সাজানোর জন্য তবক নিয়ে এসেছিলেন। দেবী আকারে প্রায় ১২ফুট লম্বা ও ১০ফুট চওড়া। দেবী এখানে পূজিত হন বৈষ্ণবমতে তাই বলিপ্রথা নেই এই পরিবারে। এই পরিবারের বৈশিষ্ট্য অষ্টমীর দিন সন্ধিপূজার নৈবেদ্য সাজান বাড়ির ছেলেরা।

জানবাজারের রাসমণির বাড়ি : জানবাজারের রাণী রাসমণিদেবীর শ্বশুরবাড়িতে প্রীতিরাম দাস(শ্বশুরমশাই) এই বাড়ির পুজো শুরু করেন, পরবর্তীকালে রানীর পুজো বলেই বেশি পরিচিত এই পুজো। জানবাজারের এই বাড়ির পুজোও শুরু হয় রথের দিন কাঠামোপুজো করে। মায়ের গায়ের রঙ শিউলি ফুলের বোঁটার মতন অর্থাৎ তপ্ত কাঞ্চনবর্ণ, প্রায় ১৪ফুট লম্বা এই প্রতিমার গায়ে সোনার নথ, টিপ, পায়ে রূপোর মল, মাথায় রূপোর মুকুট। এই বাড়ির পুজো বৃহৎনান্দীকেশ্বর পুরাণ মতে হয়। ২০০৩সাল অবধি ছাগবলি হয়েছে কিন্তু তারপর থেকে চালকুমড়ো, মাসকলাই ইত্যাদি প্রতীকী বলিদান হয়। এই বাড়ির বৈশিষ্ট্য পঞ্চাঙ্গ স্বস্তয়ন অর্থাৎ চণ্ডীপাঠ, মধুসূদন মন্ত্র জপ, মাটির শিবলিঙ্গ পূজা, দুর্গানাম জপ প্রতিপদ থেকে নবমী অবধি হয়ে থাকে।

চোরবাগান শীল পরিবার : রামচাঁদ শীল ১৮৫৬ সালে এই পরিবারে দুর্গাপুজো শুরু করেন। শীল পরিবারেও রথের দিন কাঠামোপুজো অনুষ্ঠিত হয়। অষ্টমীর দিন সকলে হয় ধুনো পোড়ানো আর দুপুরে হয় গাভীপুজো। নবমীতে কুমারীপুজোর সাথে সাথে হয় সধবা পুজোও। এই পরিবারে সম্পূর্ণ বৈষ্ণবমতে দেবীর আরাধনা হয়, ভোগে থাকে লুচি, ভাজা তরকারি, শিঙাড়া, কচুরি ইত্যাদি। এই পরিবারের বৈশিষ্ট্য যে দেবীর দুর্গার হাতে খাঁড়ার পরিবর্তে থাকে তলোয়ার।

খড়দহে গোস্বামী পরিবার : এই পরিবারের দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন নিত্যানন্দ মহাপ্রভু আনুমানিক ১৪৫২শকাব্দে (১৫৩০খ্রীঃ)। এই বাড়ির পুজো শুরু হয় উল্টোরথের দিন একটি চারহাত সমান বাঁশ কিনে গোপীনাথের মন্দিরে কাত্যায়নীর পুজো করে। মেজো বাড়ির দুর্গাপুজো কৃষ্ণানবমীতিথিতেই শুরু হয়, অর্থাৎ ১৫দিন ধরে চলে দেবীর আরাধনা। এই পরিবারে দুর্গার পাশে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর স্থানে জয়া ও বিজয়া বিরাজমান। কারণ প্রভু নিত্যানন্দ বিশ্বাস করতেন কাত্যায়নী পুজো করলে গৌরকে পাওয়া যায়। এই বাড়ির পুজো হয় বৈষ্ণবমতে তাই কোন পশুবলিদান হয় না। তবে এখানে মন্ত্রের সাহায্যে মাসকলাই বলিদান করার প্রথা আছে।

কাশিমবাজার ছোটো রাজবাড়ি : বিখ্যাত রেশম ব্যবসায়ী দীনবন্ধু রায় রেশম ব্যবসার জন্য কাশিমবাজারে এসেছিলেন। ব্রিটিশ সরকারের আনুকূল্যে ফুলে ফেঁপে ওঠে তাঁর ব্যবসা। ১৭৯৩ সালে তাঁকে জমিদারির স্বত্ব দেয় ব্রিটিশ সরকার। রথের দিন এই বাড়িতেও কাঠামোপুজো হয় দেবীর, পরিবারের সদস্যরা এই পুজোর কট

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।