শেখর দুবে, কলকাতা: এমনিতেই রাতে দেরি করে ঘুমোয় শহর কলকাতা৷ আর আজ তো বর্ষ শেষের কিংবা নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর রাত৷ পার্কস্ট্রিট-লেকটাউনে সারারাত ধরে আড্ডা জমায় জেন ওয়াই থেকে মাঝ বয়সীরা৷ ছোটে রঙিন জলের ফোয়ারা৷ পার্কস্ট্রিটের বার কাম রেস্টুরেন্টগুলোতে জায়গা পাওয়া মুশকিল হয়ে যায়৷ বাদ যায় না তন্ত্রা, Myx এর মতো ডিস্কোগুলো৷

মফস্বল এবং অন্য রাজ্য থেকে কলকাতায় পড়তে আসা ছেলে মেয়েদের কাছে আজকের রাত অনেকটায় স্বর্গীয়৷ পেইন গেস্ট, মেস কিংবা ফ্ল্যাট ভাড়া করে কলকাতায় পড়াশোনা করতে আসা ছেলেমেয়েদের একটা বড় অংশের দেখা মেলে ৩১ ডিসেম্বর রাতের পার্কস্ট্রিটে৷ শেষ রাতের আর একটি বিশেষত্ত্ব হল ‘কাপল’রা৷ বছরের শেষ রাতটা নিজের প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটাতে অনেকেই পৌঁছে যান পার্কস্ট্রিট কিংবা লেকটাউনের বড় ঘড়িটার নীচে৷ তবে শুধু কাপলরা-ই নয় দল বেঁধে আসে বন্ধুদের সঙ্গে৷

পার্কস্ট্রিট এসে এরকমই এক কাপলকে পাওয়া গেল কথা বলার জন্য৷ অরুণিমা এবং তীর্থ ভট্টাচার্য অবশ্য কলকাতা নন দিল্লির বাসিন্দা৷ অরুণিমা মেডিক্যালের ছাত্রী৷ কেমন কাটচ্ছে বছরের শেষ রাতের শুরুটা?
-দারুণ, যাস্ট অসম, পার্কস্ট্রিটের এই আলো ক্রাউড৷ সারাবছর আমরা ভালো খারাপ মিশিয়ে কাটাই৷ কখনও শহরের এখানে ওখানে ব্রীজ ভেঙে পড়ে৷ কিন্তু বছরের শেষ দিনে সবাইকে একসঙ্গে উপভোগ করতে দেখে খুব ভালো লাগে৷
-তোমরা কাপল তো? নতুন বছরে কী উইশ করছো?
– অফকোর্ষ কাপল( লজ্জা মেশানো হাসিতে উত্তর দেয় অরুণিমা)৷ নতুন বছরে উইশ বলতে দুজনএ একসঙ্গে থাকা আর হ্যাঁ প্রোবাবলি নেক্স ইয়ার ইউ আর গোয়িং টু এনগেজ লিগ্যালি৷

তবে শুধু যে নতুন প্রেমিকরা এখানে আসে এমনটা কিন্তু একেবারেই নয়৷ বিবাহিত জুটি কিংবা বন্ধুদের গ্রুপের সংখ্যাটা কিন্তু নেহাতই কম নয়৷ কারও মাথায় লাল রঙ্গের সিং তো কারও চুলে আটকানো রঙ-বেরঙ্গের তিয়ারা৷ আলো, রোশনায় , গান , বেলুনে ঠিক এভাবেই বছরের শেষ রাতকে বিদায় জানায় কলকাতাবাসী৷