কাঁথি: পূর্ব ভারতের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠতে চলেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর ২ ব্লকের অন্তর্গত কালিন্দী গ্রাম পঞ্চায়েতের দানপত্রবাড় এলাকায়। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বর্তমানে স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক খুশির হাওয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বাম জমানায় ওই এলাকায় প্রায় ৯০০ একর জমিতে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকারের উদ্যোগে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে ওই মাছ চাষ দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় ওই স্থান পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকে। তবে বর্তমানে রাজ্য সরকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে ওঠার খবরে এখন খুশি স্থানীয়রা।

গত ডিসেম্বর মাসে দিঘায় বাণিজ্য সম্মেলনে এই রামনগরের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছিল। যার জন্য জার্মান ব্যাংক কেএফডব্লুর সহযোগিতায় বর্তমানে বাস্তবে রূপায়িত হতে চলেছে এই পূর্ব ভারতের সর্ববৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প।

মন্দারমনি থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে এই রামনগরের দাদনপাত্রবাড় এলাকা। আর এই এলাকা জড়িয়ে রয়েছে লবণ আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে। ১৯৩৪ সালে যখন সারা দেশজুড়ে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলন অত্যন্ত সক্রিয় পর্যায় চলছে ঠিক সেইসময় দাদনপাত্রবাড় এলাকায় গড়ে উঠেছিল লবণ তৈরির কারখানা। তবে তা ১৯৯২সালে একেবারে তালা বন্ধ হয়ে পড়ে। যার ফলে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে লবণ কারখানার জন্য তৈরি হওয়া ঘরবাড়িগুলিও। বর্তমানে যা একেবারে ভাঙাচোরা অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

এরপর তৎকালীন বাম সরকারের মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কিছু বছর পরেই একেবারে তলানিতে ঠেকে যায়। এরপর থেকেই স্থানীয় মানুষদের দাবি ছিল যাতে তাদের জীবিকা উপযোগী কারখানা গড়ে তোলা হয় ওই এলাকায়। আর সেই দাবি অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে দিঘার বাণিজ্য সম্মেলনে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ওই এলাকায় বিনিয়োগের প্রস্তাব আসে। এরপরই চলতি সপ্তাহে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয় ওই ৫৬২ একর জমিতে ১২৫ মেগাওয়াটের পূর্ব ভারতের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হবে।

তবে বর্তমানে বেশ কয়েকটি লবণ কারখানা রয়েছে ওই এলাকায়। আর এর মধ্যেও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠলে তারা তা থেকে বিকল্প জীবিকার রাস্তা পাবেন বলে মত তাদের। পাশেই শিল্পশহর হলদিয়া রয়েছে। কিন্তু সেই শিল্পশহর বর্তমানে দূষণের জেরবার। তবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প একেবারে দূষণহীন হওয়ায় এখন এই প্রকল্পকে স্বাগত জানাচ্ছেন সকলে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস বলেন, “দিঘার বাণিজ্য সম্মেলনে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছিল। জার্মান ব্যাংক কেএফডব্লুর সহযোগিতায় বর্তমানে এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠবে। এর ফলে স্থানীয় বহু মানুষই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।”

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও