কলকাতা: শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও বার্তার দিকেও তাকিয়ে ছিল দেশবাসী। এর আগে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে দেশ জুড়ে লকডাউনের ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। আগামী রবিবার ৫ এপ্রিলের জন্য বিশেষ ঘোষণা করলেন তিনি। তিনি বললেন, আগামী ৫ এপ্রিল রাত ৯ ঘরের সব আলো নিভিয়ে জানালা বা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে মোমবাতি, প্রদীপ, টর্চ কিংবা মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালাতে হবে।

গোটা দেশের ১৩০ কোটি মানুষ করোনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করছে প্রদীপ জ্বালানোর মধ্যে দিয়ে তা প্রমাণ হয়ে যাবে। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এই অনুরোধ নিয়ে ইতিমধ্যেই হইচই পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেক সমালোচনা হলেও, আলো জ্বালাবার এই প্রয়াসকে ভালো চোখেই দেখছেন বাংলা ভাষার বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “এটা প্রয়াস হিসেবে খারাপ নয়, ভালোই প্রয়াস। তবে এখন আমাদের যে সংকট চলছে, সেখানে দাঁড়িয়ে মানুষ এই ব্যাপারটাকে কীভাবে নেবে সেটা আমি ঠিক জানি না। অস্ট্রেলিয়ায় এরকম হয়েছিল একবার। তারা পলিউশনের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছুটা সময় সারা অস্ট্রেলিয়া অন্ধকার করে রেখেছিল।

আমরা ঐক্যবদ্ধ, সকলে সহমত, সকলে একতাবদ্ধ– এই বার্তাটা দেওয়ার জন্য আলো জ্বালানো যেতেই পারে। কিন্তু ভারতবর্ষ বিভিন্ন মতামতের দেশ। সেখানে সবাই যে প্রধানমন্ত্রীর কথা মেনে নেবে– সেটা আমার মনে হয় না। তবে প্রয়াস হিসেবে এটা আমার খারাপ মনে হচ্ছে না। মানুষ এখন ঘরবন্দি। অনেকরই একঘেয়ে সময় কাটছে– সেখানে দাঁড়িয়ে এরকম একটা আবেগের মুহূর্ত তৈরি করতে পারলে খানিকটা কাজ হয়, খানিকটা বুস্টার হয় মানসিক ভাবে। সিদ্ধান্তটা তাই আমার খারাপ বলে মনে হচ্ছে না।

কিন্তু, আমাদের সমস্যা হল আমরা সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি করে ফেলি। এর আগে বাসন বাজানো হয়েছে। এমনিতেই আমাদের দেশ শব্দ দূষণের দেশ। সাউন্ড পলিউশন খুব বেশি। তাঁর মধ্যে বাসন বাজালে আরও বেশি শব্দ দূষণ হয়। সেটা না হলেই ভাল হত। তবে আলো নিভিয়ে কিছুক্ষণের জন্য প্রদীপ জ্বালানো যেতেই পারে।”