‘নীল নির্জনে’ চলে গেলেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। ৯৪ বছর বয়স হয়েছিল। বার্ধক্যজনিত অসুখে দীর্ঘদিন ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে স্ত্রী-র বিয়োগের পর তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। আজ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার ৪.৩০ থেকে ৬ টা পর্যন্ত রবীন্দ্রসদনে তাঁর মরদেহ শায়িত থাকবে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন গুণমুগ্ধরা। সন্ধ্যা ৭ টায় বাঙ্গুরের বাড়িতে তাঁকে শেষ বারের মতো নিয়ে যাওয়া হবে। ৭.৩০ মিনিটে নিমতলা মহাশ্মশনে গান স্যালুটে সম্মান জানানো হবে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে।

পড়ুন: নন্দীগ্রামে জমি ফেরানোর লড়াই চালাচ্ছে বামেরা

তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া সাহিত্য মহলে। বিশিষ্ট সাহিত্যকদের কথায় উঠে এল নীরেন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ:

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়: অভিভাবকহীন হয়ে পড়লাম। আশ্রয়হীন মনে হচ্ছে। নীরেনদার চলে যাওয়া খুব খারাপ খবর। এই শূন্যতা পূরণ হবে না। বাংলা সাহিত্যের ক্ষতি হল, ভাষার ক্ষতি হল। নীরেনদা প্রত্যেক শব্দের মানে জানতেন। এমন মানুষ আজকাল খুঁজে পাওয়া যায় না। অর্ধশতাব্দির বেশি তাঁর সঙ্গে মিশেছি। খুব বিষণ্ণ লাগছে।

জয় গোস্বামী: উজ্জ্বল যতিষ্ক পতন হল। কলকাতার যিশু, উলঙ্গ রাজা-র মতো বহু বিখ্যাত কবিতার স্রষ্টা তিনি। নব্বই বছর পার করেও তিনি কবিতা লিখে গেছেন। যা তরুণ কবিদের কাছে প্রেরণা হয়ে উঠেছিল। চল্লিশের দশকের কবিদের মধ্যে তিনি অগ্রগণ্য। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, অরুণ মিত্রের বন্ধু ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের ক্ষতি হয়ে গেল। বাংলা বানান নিয়ে খুব চিন্তা করেছেন। আমি শোকাহত বোধ করছি।

পড়ুন: শহর থেকে গ্রাম ,বড়দিনে জমিয়ে ঠাণ্ডা রাজ্যে

সুবোধ সরকার: বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান ভোলা যাবে না। সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা হল কলকাতার যিশু চলে গেলেন ২৫ শে ডিসেম্বরে। এমন ঐতিহাসিক সমাপতন বাংলা কবিতায় আর কখনও হয়নি। ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি বাংলা কবিতাকে আধুনিক করে তুলেছিলেন। সান্তিয়াগোতে পাবলো নেরুদা চলে যাওয়ার পর যে রকম অবস্থা হয়েছিল আজ কলকাতার সেরকম অবস্থা। বাংলা সাহিত্যে তাঁর কাছে চির ঋণী থাকবে।