সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘বদন পে সিতারে লপেটে হুয়ে’, ‘ক্যায়া হুয়া তেরা ওয়াদা’ থেকে ‘মস্ত বাহারো কা ম্যায় আশিক’ এসব রোম্যান্টিক গান যার গলায় শুনে পাগল হয়ে গিয়েছে ভারতবাসী সেই তিনিই ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন চরম রসকষহীন এবং রক্ষনশীল একজন ব্যক্তিত্ব।

ছোট পুত্র বধূ জসমিন শ্বশুর সম্বন্ধে এমন কথাই জানিয়েছেন। তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন যে এই মানুষটাই ওইরকম এমন প্রেমের গান গাইতে পারে! আসলে রফির সাহেব সম্বন্ধে জেসমিনের এমন ধারনার শুরু ছোট ছেলের জন্য তাঁকে দেখতে আসার দিন থেকেই। ক্রমশ আরও চিত্রটা তাঁর কাছে পরিস্কার হয়েছিল। ইংরেজিতে একটি প্রচলিত কথা রয়েছে ‘ফার্স্ট ইম্প্রেশন ইজ দ্য লাস্ট ইম্প্রেশন’ অর্থাৎ কারোর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের প্রথম মুহূর্তটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অভিব্যক্তি বলে দেয় নতুন পরিচিতের স্বভাব চরিত্র। এবার ভালো হলে তো ভালোই। খারাপ হলে সেই ধারনা বদল হতে সময় লাগে। এমনটাই বলে থাকেন মনিবিদরা। অনেকটা এমন কাণ্ডই ঘটেছিল পুত্রবধূ জেসমিন এবং রফি সাহেবের মধ্যে। পড়ে ধারনা বদল হয়। কিন্তু কি এমন ঘটনা যা প্রথম সাক্ষাতেই ‘রোম্যান্টিক’ রফি সাহেবকে বেরসিক, রক্ষণশীলের তকমা দিয়ে দিয়েছিল?

জেসমিন লিখেছেন রফি সাহেব তাঁর শ্বশুর হতে যাচ্ছেন শুনে তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন তাঁর ছেলের জন্য তাঁকে সুন্দর হতে হবে নাকি রফি সাহেবের জন্য। তিনি এও ভেবেছিলেন অসাধারণ কণ্ঠের অধিকারী মানুষটিকে অসাধারণ দেখতে হবে। সামনাসামনি হতেই স্বপ্ন চুরমার। আদ্যপ্যান্ত সাধারণ একজন মানুষ। এত পর্যন্ত মানিয়ে নিয়েছিলেন জেসমিন। আসল ঘটনা এর পরের। রফি সাহেব তাঁকে প্রশ্ন করলেন, “আমাদের বাড়িতে শাড়ির সঙ্গে লম্বা হাতার ব্লাউজ পরা হয়। তুমি পরবে তো?” কলের পুতুলের মত হ্যাঁ জানিয়েছিলেন জেসমিন। এতেই মেয়ে পছন্দ।

 

বিয়ের পর কি হল? অনেক স্বপ্ন নিয়ে জেসমিন শ্বশুর ঘরে এসেছেন। স্বামীর চেয়ে শ্বশুরকে নিয়ে আগ্রহ বেশি। তারকা গায়ক, তাঁর জীবনযাত্রা সামনে থেকে দেখবেন। কিচ্ছু হয়নি। অত্যন্ত সাধারণ একজন মানুষ। জেসমিন শুনেছিলেন প্রচুর ফিল্ম স্টার নাকি রোজই আসা যাওয়া করেন রফি সাহেবের বাড়িতে। এই তথ্যে কোনও ভুল ছিল না। তাই তারকাদের চোখের সামনে রোজ দেখবেন এমন একটা স্বপ্ন ছিল জেসমিনের। কিন্তু সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দিলেন রফি। মৃদু কিন্তু দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাইরের মানুষের সামনে ইচ্ছা হলেই আসা যাবে না। মনে হলে তিনি ডেকে নেবেন।

জেসমিনের আশা ছিল, শ্বশুরমশাইয়ের গান রেকর্ডিং দেখতে যাবেন। তাতেও জল ঢেলে দিয়েছিলেন রফি। জেসমিনের বাপের বাড়ির লোককে রেকর্ডিং দেখিয়ে আনলেন। কিন্তু বৌমাকে নিয়ে গেলেন না! যিনি সারাক্ষণ প্রেমের গান গাইছেন তিনি আদতে এতটাই প্রাচীনপন্থী।

কিন্তু এই মানুষটাই যখন তাঁকে হিন্দিতে ‘বহু’ বা বউমা থেকে ‘বিটিয়া’ করে নিলেন তখন তাঁর চেয়ে ভালো মানুষটি খুঁজে পান নি জেসমিন। বুঝে গিয়েছিলেন এসবই তাঁর ‘ফার্স্ট ইম্প্রেশনের’ দোষ।

প্রসঙ্গত জেসমিন ছিলেন সেলিম-জাভেদ জুটির সেলিমের ভাইঝি। সেই পরিচয় সূত্রেই জেসমিনের সঙ্গে ছেলের বিয়ে ঠিক করেছিলেন রফি সাহেব।

তথ্য – পুত্রবধূ জেসমিনের লেখা বই  ‘মাই আব্বা মহম্মদ রফি ’