সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: শিকার উৎসব ক্রমে মাদকের নেশার মতো হয়ে যাচ্ছে। এমনটাই মত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনগুলির। বিগত এক বছর বার বার খবর এসেছে শিকার উৎসব। বছরের বিচিন্ন সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্রমে বেড়েই চলেছে শিকার উৎসব। কোনওভাবেই তা ঠেকানো যাচ্ছে না।

সাধারণত শীত, বসন্ত , গ্রীষ্ম এই সময়গুলিতে বাংলার আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে শিকার উৎসব হয়। লালগড়ে বাঘ কাণ্ডের সময় থেকে বেশী করে নজরে এসেছে শিকার উৎসবের ভয়ঙ্কর চেহারা, যেখানে বন দফতরের আদিকারিককে হাতে পায়ে ধরে বোঝাতে হচ্ছে আদিবাসীদের যে তারা যেন শিকার করতে না যায়।

দেখা গিয়েছে এর পরেও কোনও ফল হয়নি উলটে সেই শিকার নেশার জেরেই প্রাণ গিয়েছিল বাঘের। পরেও একাধিক ঘটনা দেখা গিয়েছে যেখানে বনদফতরকে হিমশিম করেছে শিকার উৎসব। সম্প্রতি হাওড়ায় প্রায় সাড়ে চারশো শিকারিকে ফেরত পাঠায় এক বন্য প্রাণী সংরক্ষণের সংগঠন।

তাদের থেকেই জানা গিয়েছিল যে যারা এখন শিকার উৎসব করছেন আদতে তাদের বেশিরভাগ আদিবাসীও নয়। তারা এমনই আনন্দ পেতে শিকার করতে চলে এসেছে। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদেও এমন চিত্র ধরা পড়ছে যা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে HEAL নামে একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠন। তারা বেশ অবাক যে বর্ষার মরসুমেও শিকার উৎসব হচ্ছে। তবে তারা মনে করছে এটা কোনও উৎসব নয়। স্রেফ নেশা, যা মাদকের মতো ভয়ঙ্ক্র আকার ধারন করছে।

প্রমাণ হিসাবে সংগঠনের সদস্য সৌম্যদীপ মণ্ডল বলেছেন , “বর্ষার মরসুমেও শিকার উৎসব হচ্ছে, এটা আগে কখনও হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।” আদিবাসী এক ব্যক্তিকে ঘাড়ে করে প্রচুর মৃত পশু নিয়ে যেতে দেখে তার সন্দেহ হয়েছিল। শিকার উৎসবের খবর পেয়ে সে মুর্শিদাবাদের ওই জলা জঙ্গলে পরিপূর্ণ অঞ্চলে পৌঁছে যান কিন্তু সেখানে গিয়ে তাদের কাউকেই আর খুঁজে পাননি। তিনি বন দফতরকেও খবর দেন কিন্তু বনদফতরের কর্মীরাও কাউকে খুঁজে পাননি বলে দাবি সৌম্যদীপের।

তবে সে জানিয়েছে , ঘটনার পরে বনদফতর তৎপর হয়ে এলাকায় মাইকিং করতে শুরু করে। সংগঠনের আশা, এতে হয়তো মানুষের চোখ খুলবে, কিন্তু সেটা কতটা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান তারা, কারন সংগঠনগুলি মনে করছে ক্রমে সর্বনাশা মাদকের নেশার মতো ছড়িয়ে পড়ছে বন্য প্রাণ হত্যার প্রবণতা।

২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিলেই HEAL-এর পিটিশনের পক্ষে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় বন্যপ্রাণী হত্যা বন্ধ করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই অনুযায়ী বনদফতর কাজ করছে। রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বন্যপ্রাণ রক্ষার সংগঠনগুলির আশঙ্কা একটাই, যে মানুষকে সতর্ক করা যেতে পারে কিন্তু নেশার আকার দজারন করলে তা বন্ধ করা ব্যাপক শক্ত।