সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: যে আপনার পর সে তো ধোঁকা দিতেই পারে, কিন্তু ঘরের মানুষটি ধোঁকা দিলে তা হতাশাজনক হয়। ঠিক তেমনই যেন অবস্থা হল কলকাতার। তিন দিন আগে থেকে পূর্বাভাস , ফের শহরে আছড়ে পড়বে কালবৈশাখী। মঙ্গলবার সকালেও এই পূর্বাভাসের কোনও অদলবদল হয়নি। সতর্কতা জারি করা হয়েছিল কিন্তু শেষ মুহূর্তে ধোঁকা দিয়ে ঝড় পালালো বঙ্গোপসাগরের দিকে।

কলকাতাবাসীর সঙ্গে মঙ্গলবারের কালবৈশাখীর মেঘ সুপার ওভারের টান টান ম্যাচ খেলে নিল। শেষ বল, দরকার চার রান। ব্যাটের খোঁচা লেগে বল বাউন্ডারির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অসাধারণ ফিল্ডিং করে থার্ড ম্যান ধরে নিল বল। ম্যাচ এক রানে হারল মহানগর। ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ শেষ বলে চার বাঁচানো ফিল্ডার দক্ষিন-পশ্চিমী বাতাস, যা গ্রীষ্মের আগে খুব চেনা শহরের কাছে। কিন্তু এই চেনা হাওয়া এমনভাবে শেষ মুহূর্তে তাদের ঝড়ের আশায় জল ঢালবে তা ভাবা যায়নি। দুপুর থেকে মেঘ জমতে শুরু করেছিল কলকাতার আকাশে। কিছুক্ষনের মধ্যেই কালো করে আসে আকাশ। হাওয়া দিতেও শুরু করেছিল তুলনামূলক বেশি গতিতে। শহরবাসী ভেবেছিল এই ঝড় উঠল বলে।

বিকেল ৫.৫৫ মিনিট, আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গনেশকুমার দাস জানিয়ে দেন, “ঝড় আসছে না। তুলনামূলক বেশি গতির দক্ষিণ-পশ্চিমী হাওয়া শহরের উপর তৈরি হওয়া মেঘপুঞ্জকে ঠেলে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে বঙ্গোপসাগরের দিকে।” কিন্তু এই মেঘপুঞ্জ তৈরি হয়েছিল কোথা থেকে?

অধিকর্তা বলেন , “মেদিনীপুরের দিক থেকে মেঘটি শহরের দিকে এগিয়ে এসে জমাট বেঁধেছিল। কিন্ত বঙ্গোপসাগরের দিকে সেটি চলে গিয়েছে। ফলে কলকাতায় ঝড়ের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।” তবে সকালের দিকে ঝড় বৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের উত্তরের জেলাগুলিতে। সতর্কতা দেওয়া হয়েছে পশ্চিমের জেলাগুলিতেও।

ঝড় না হলেও গুমোট এবং গরমকে কমিয়ে দিয়েছে দক্ষিন – পশ্চিমী ঠাণ্ডা হাওয়া। মঙ্গলবার সকালে শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা স্বাভাবিক। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি। আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ, সর্বনিম্ন ২৩ শতাংশ। ঠাণ্ডা হাওয়ার ফলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিকালে কমে ৩৫.১ ডিগ্রি হয়েছে। বুধবারও কলকাতাসহ রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।