প্রতীকী ছবি

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: কিছুকাল আগেও যা ভাবা যেত না তা-ই হতে চলেছে কলকাতার তথ্যপ্রযুক্তি তালুক বা আই-টি সেক্টরে৷ বিধাননগরের সেক্টর-ফাইভ, নিউটাউন এবং কলকাতার অন্যান্য জায়গার তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের কিছু কর্মী ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে চলেছেন৷ রাজ্যের শ্রম দফতরে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের আবেদনও জানিয়েছে, ‘কলকাতা ফোরাম ফর আই-টি এমপ্লয়িজ৷’ শনিবার অনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের কথা জানাবে এই সংগঠন৷

বাম আমলে কিংবা তার পরে, কলকাতার তথ্যপ্রযুক্তি তালুকে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের কথা শোনা যায় না৷ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের সম্পর্কে একটি প্রচলিত ধারণা হল, তাঁরা রাজনৈতিক আন্দোলন বা ইউনিয়ন-রাজনীতির বাইরেই থাকতে পছন্দ করেন৷ ধর্মঘট তাঁদের জন্য নৈরাশ্যজনক শব্দ৷ কিন্তু প্রচলিত মিথ ভেঙেই ইউনিয়ন গঠনের পথে কলকাতার এই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা৷ তবে তাঁদের ইউনিয়ন অরাজনৈতিক৷

পড়ুন: ‘অভিষেক আর সিন্ডিকেটের জন্য তৃণমূল ছেড়েছি’, বিস্ফোরক সুনীল সিং

সংগঠনের সহ সভাপতি সৌমদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘একটা সময় রাজ্যে তথ্যপ্রযুক্তির স্বর্ণযুগ ছিল৷ ২০০৭-০৮৷ তারপর খারাপ সময় শুরু হল৷ ২০১৭ সালে একটি বড় আই-টি কোম্পানি ২৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে চেয়েছিল৷ শেষ পর্যন্ত অতটা না পারলেও প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে ওই কোম্পানি৷ ওই কোম্পানির নিপীড়ণ-নীতির জন্য ভুক্তভোগী প্রায় ১২ হাজার৷’’

সৌমদীপের বক্তব্য, ‘‘সমস্যা আরও রয়েছে৷ অনেক সময় টেকনোলজিক্যাল শিফট বা প্রযুক্তি পরিবর্তনের জন্য কর্মী ছাঁটাই হয়৷ সঠিক কারণ না দিয়েও কর্মী ছাঁটাই হতে পারে৷ সেখানে অজুহাতই যথেষ্ট৷ একটা সময় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা এইসব কথা চিন্তা করত না৷ অফিসের এইচ আর বা ম্যানেজমেন্টের নির্দেশ মাথা পেতে নিতে হত৷ বসের কথাই হত লাস্ট ওয়ার্ড৷’’

এই মুহূর্তে কলকাতা ফোরাম অব আই-টি এমপ্লয়িজে প্রায় ১৪০ জন সদস্য রয়েছে৷ তবে এই সংগঠন কলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ৷ সংগঠনের নেতাদের বিশ্বাস সদস্যরা সারা বাংলার অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি তালুকেই ছড়িয়ে পড়বে৷

২০০০ সালের গোড়াতেই সিপিএম নেতা অমিতাভ নন্দী বিধাননগরের সেক্টর-পাইভের তথ্যপ্রযুক্তি তালুকে কর্মীদের নিয়ে ইউনিয়ন চালু করতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু সেভাবে সাড়া পাননি৷ বর্তমানে রাজ্যের সিটু নেতৃত্বও সেই চেষ্টাই করছে বলে জানিয়েছেন, সিটু নেতা সুভাষ মুখোপাধ্যায়৷ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও একই চেষ্টা চালিয়েছে৷ সেক্ষেত্রে কর্মীরা এগিয়ে এসে ট্রেড ইউনিয়ন করার ডাক দিয়েছে, যা ব্যতিক্রমী৷