দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ডিসেম্বরে বিজেপির রথযাত্রায় গোলমাল করবে তৃণমূল কংগ্রেস৷ এই আশঙ্কা করে রাজ্যে নিজেদের আইপিএস সেলকে তৈরি থাকতে বলল বিজেপি৷ গেরুয়া শিবিরের আইপিএস সেলের মূল লক্ষ্য হল – রথযাত্রার সময়ে শাসকদল গন্ডগোল পাকালে রাজ্যে বর্তমানে কর্মরত আইপিএস-দের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল করা৷

দরকার হলে প্রয়োজনীয় আইনের দিকটিও খতিয়ে দেখতে হবে তাঁদের৷ সেক্ষেত্রে তাঁরা যোগাযোগ রাখবেন রাজ্য বিজেপির লিগাল সেলের সঙ্গে৷ প্রসঙ্গত বিজেপি-র আইপিএস সেলে প্রাক্তন আইপিএস-রা রয়েছেন। তাঁরা রাজ্যের আইপিএসদের বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে সকল আইপিএসদের কেন্দ্র পরিচালনা করে। সুতরাং কেন্দ্রের শাসকদলের নেতাদের যে যাথযথ গুরুত্ব এবং মর্যাদা দেওয়া হয়।

ডিসেম্বরের ৫, ৭ এবং ৯ তারিখ বাংলায় বিজেপির রথযাত্রা৷ রথযাত্রার সময়ে বাংলাতেই থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত অনীলচন্দ্র শাহ৷ তবে শুধু অমিত শাহই নয়, রথযাত্রায় চাঁদের হাট বসতে চলেছে বাংলায়৷ পার্টিসূত্রে যা খবর, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের আশা প্রায় পাকা৷ ওই রাজ্যগুলিতে নির্বাচন নেই৷ তাই তাঁদের বাংলায় অমিত শাহের রথে সওয়ারী হতে কোনও বাধাও নেই৷ কিন্তু যেসব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে, সেই সব রাজ্য থেকে মুখ্যমন্ত্রীদের আসার কোনও সম্ভাবনা নেই৷

ভিভিআইপি-দের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা থাকলেও রাজ্য বিজেপির তরফে নিরাপত্তার ব্যাপারে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে৷ শুক্রবার রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তর ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে আইপিএস সেলের বৈঠকে রথযাত্রার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ তৃণমূল রথযাত্রা সময়ে গন্ডগোল পাকাবে, পার্টি সে বিষয়ে নিশ্চিত৷ কোন ষড়যন্ত্রও হতে পারে বলে মনে হচ্ছে রাজ্য বিজেপির নেতাদের৷ সেক্ষেত্রে পুলিশি এবং আইনী নিরাপত্তার দিকটা দেখাশোনা করতে হবে আইপিএস সেলকে৷

রাজ্য বিজেপির এক সিনিয়ার নেতার কথায়, ‘‘আমরা রথযাত্রার সময়ে ঝামেলা চাই না৷ কিন্তু তৃণমূলও ভালো করেই জানে ঝামেলা করলে তাতে বিজেপিরই প্রচার বেশি হবে৷’’ তবে, সম্প্রতি অমিত শাহের সভার জন্য খাস কলকাতার বুকে প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া করতে কম হয়রানির মুখে পড়তে হয়নি রাজ্য বিজেপিকে৷ রাজ্য বিজেপির অভিযোগ ছিল – সভার জন্য নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম ভাড়া দিতে চায়নি রাজ্য সরকার৷ কিন্তু রাজ্যের তরফ থেকে পরে তা অস্বীকার করা হয়৷ বিজেপির মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, যারা অমিত শাহকে বক্তব্য রাখার জন্য প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া দিতে পারেনা, তারা তাঁকে রাজ্যে এত সহজেই রথযাত্রা করতে দেবে, তা কী করে ভাবছে রাজ্য নেতৃত্ব৷

অক্টোবরের ৫ তারিখ রথ বেরোবে তারাপীঠ থেকে৷ ৭ তারিখ কোচবিহার এবং ৯ তারিখ গঙ্গাসাগর থেকে রথ বেরবে৷ পাঁচ থেকে দশদিন টানা রাজ্যে থাকবেন অমিত৷ তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করা হচ্ছে৷ সোমবার, রাজ্য বিজেপির সদর দফতর ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে এক বৈঠকে ঠিক হয়েছে রথযাত্রা নিয়ে রাজ্য সরকারের সাহায্য চাওয়া হবে৷ সমস্ত পরিকল্পনা হয়ে গেলে রাজ্য সরকারের কাছে নির্দিষ্ট অনুমতিও চাওয়া হবে৷

ঠিক হয়ে গিয়েছে, বাংলায় বিজেপির রথযাত্রা থেকে অভিজ্ঞতা নিতে আসবেন ভীন রাজ্যের প্রতিনিধিরাও৷ ডিসেম্বর মাসে রথ রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে ঘুরপাক খাবে৷ বিশাল এই রথযাত্রা নিজের চোখে দেখতে গুজরাট রাজ্য থেকে আসবেন ওই বিশেষ প্রতিনিধিরা৷ তাঁরা কলকাতায় পৌছবেন ডিসেম্বরের অনেক আগেই৷ বাংলায় রথযাত্রার অভিজ্ঞতার রিপোর্ট তাঁরা পৌছে দেবেন দিল্লিতে৷

বিজেপি সূত্রে খবর, অন্তত সাত-আটজন প্রতিনিধি ভীনরাজ্য থেকে রথ দেখতে আসবেন বাংলায়৷ গুজরাট থেকে তিন প্রতিনিধির আসা নিশ্চিত হয়েছে৷ বাকিরা অন্যান্য রাজ্য থেকে আসবেন৷ তবে ভোটমুখী রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশ থেকে কেউ থাকছেন না৷ ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে থেকে জানা গিয়েছে, গুজরাট থেকে যে প্রতিনিধিদল আসছে, তাতে রয়েছেন – অমিত ঠাকার, প্রদীপসিন বাঘেলা এবং পৃথ্বীরাজ প্যাটেল৷ প্রদীপসিন বাঘেলা গুজরাটে পার্টির সম্পাদক৷

রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় পার্টি৷ সারা ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রা হয়ে থাকে৷ কিন্তু বাংলায় ১৯৯০ সালের পর কোনও রাজনৈতিক-রথযাত্রা দেখেনি৷ ১৯৯০ সালে লালকৃষ্ণ আদবানীর রাম রথযাত্রার স্মৃতি উস্কে দিয়ে ডিসেম্বরের ৫ তারিখ আবার রথে উঠবেন অমিত৷ সম্প্রতি দিল্লিতে একটি বৈঠকে অমিত শাহ বাংলার রথযাত্রা সম্পর্কে বলতে গিয়ে অন্যান্য রাজ্যের প্রতিনিধিদের জানিয়েছিলেন, আর পাঁচটা রথযাত্রার সঙ্গে এই রথযাত্রার ফারাক রয়েছে৷ যেখানে কখনই পার্টির রথযাত্রা হয়নি, সেখানে রথের চাকা ঘুরবে৷ বিজেপির কাছে এটি ‘মেগা-ইভেন্ট৷’ রথ দেখা এবং ভোট চাওয়া দুই-ই হবে৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।