বিশেষ প্রতিবেদন: সাতপুরা পাহাড়ের রানী পাঁচমারি মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত। গরমে বেড়াতে যাওয়ার আদর্শ ঠিকানা শৈলশহর পাঁচমারি। ৩,৫৫৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত সবুজে মোড়া এই শহরে প্রকৃতি নিজেকে মেলে ধরেছে। নীল আকাশের নীচে ছড়িয়ে রয়েছে শাল-সেগুনের সারি।

হাতে অন্তত তিন দিন সময় নিয়ে পাড়ি দিন পাঁচমারিতে। সামান্য দূরে গেলেই জটাশঙ্কর গুহা। গুহায় রয়েছে অনেক ছোট বড় শিবলিঙ্গ। কথিত আছে পাণ্ডবরা এই গুহাতেই বসবাস করেছিলেন অজ্ঞাতবাসের সময়।

১৩৬৫ টি সিঁড়ি ভাঙে মহাদেব গুহার সুবিশাল শিবলিঙ্গ দেখতে পারেন। এছাড়া পাঁচমারিতে রয়েছে দুটি চার্চ। একটি ক্যাথলিক ও অন্যটি ক্রাইস্ট চার্চ। চার্চ দুটির ভেতরে স্প্যানিশ ও আইরিশ স্থাপত্যের দেখা মিলবে। রয়েছে বনদফতরের মিউজিয়াম।

সোমবার ছাড়া বাকি দিনগুলিতে খোলা থাকে মিউজিয়াম। পাঁচমারির আরও একটি দ্রষ্টব্য সাতপুরা ন্যাশনাল পার্ক। ১৪২৭ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এই জঙ্গলে বাঘ, চিতাবাঘ, হরিণ সহ অনেক বন্য প্রাণী ঘুরে বেড়ায়। গাড়ি ভাড়া করে জঙ্গল সাফারি করতে পারেন।

ট্রেক করতে পারেন পাঁচমারির রহস্যময় জঙ্গলে। হঠাৎ নজরে আসবে ৩৫০ ফুট উঁচু থেকে রজতপ্রপাত অঝোর ধারায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে নীচে। কাছাকাছি পাবেন অপ্সরাবিহার ও পাঞ্চালি কুণ্ড। এই পাহাড়ি শহরের বুক চিরে এলোমেলো জঙ্গুলে রাস্তা নেমে গিয়েছে ৮০০ মিটার নীচে।

এছাড়া রয়েছে পাঁচমারি হ্রদ। হতে সময় থাকলে হ্রদের জলে বোটে চেপে ভেসে বেড়াতে পারেন। যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হবে তা সারাজীবন মনে থাকবে। প্রিয়দর্শিনী ভিউ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে সারা শহর দেখুন। এখন থেকে পাঁচমারিকে দেখতে লাগে দারুণ। ১৮৫৭ সালে এখনে দাঁড়িয়েই ক্যাপ্টেন ফোরসিস এই শৈলশহর আবিষ্কার করেন।

কীভাবে যাবেন:
হাওড়া থেকে ১২৩২১ মুম্বই মেলে চেপে পিপারিয়া নামুন। স্টেশন থেকে পাঁচমারির দূরত্ব মাত্র ৪৭ কিলোমিটার। স্টেশন থেকে বাস ও ভাড়া গাড়ি পাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন:
হোটেল অমলতাস। এসি ঘরের ভাড়া ৩০০০ তাকা। এসি ডিলাক্স ৪০০০ টাকা। (ব্রেকফাস্ট নিয়ে)। ফোন ০৭৫৭৮-২৫২০৯৮।