দেবময় ঘোষ, কলকাতা: বিচ্ছেদ হওয়ারই ছিল৷ শুক্রবার বিকালে রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদে প্রার্থী ঘোষণা করে বাম-কং বিচ্ছেদেই শীলমোহর দিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু৷ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মুজাফ্ফর আহমেদ ভবনে শুক্রবার সন্ধ্যায় বামফ্রন্টের জেতা কেন্দ্র – রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদে সিপিআইএম তথা বামফ্রন্ট প্রার্থী মহম্মদ সেলিম এবং বদরুদ্দোজা খানের নাম ঘোষণা করার পর বিমান বসু সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন৷

এক সংবাদিক কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করেন৷ প্রশ্নকর্তা বলেন, ‘রায়গঞ্জে মহম্মদ সেলিমের জেতার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে সোমেন মিত্র বৃহস্পতিবার বলেছেন সেলিম কী সংসদে লেনিন হবেন …৷’ প্রশ্ন শোনার পর বিমান বসুর বক্তব্য, ‘‘কোনও প্রবীণ ব্যক্তিত্ব যখন বালখিল্যের মতো কথা বলে, তখন উত্তর দেওয়া উচিত নয়৷ ’’ প্রদেশ সভাপতির বক্তব্যের পরিপ্রক্ষিতে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের পালটা জবাব শুনে রাজনৈতিক মহলে ব্যাখ্যা – আসন সমঝোতা তো দূরের কথা, বাম-কংগ্রেস মধুচন্দ্রিমার শেষ গল্প বলা হয়ে গিয়েছে শুক্রবার ভর সন্ধ্যাতেই৷

বিমান বসু অবশ্য বলেছেন কংগ্রেসের জেতা চারটি আসন – জঙ্গীপুর এবং বহরমপুর (মুর্শিদাবাদ জেলা) এবং মালদহ উত্তর ও মালদহ দক্ষিণে (মালদহ জেলা) প্রার্থী দেবে না বামফ্রন্ট৷ কিন্তু কংগ্রেস যদি রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদে প্রার্থী ঘোষণা করে তবে বামফ্রন্টও বৈঠক করে ভিন্ন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে৷ বামফ্রন্টের অন্দরের যা খবর, কংগ্রেসের সাংসদ এবং প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাঁর বহরমপুরে কেন্দ্রে আরএসপি-কে প্রার্থী তৈরি করে রাখতে বলা হয়েছে৷ জঙ্গীপুর, মালদহ উত্তর ও মালদহ দক্ষিণে প্রার্থীও সিপিএম ঠিক করে রেখেছে৷ কংগ্রেস কী করে তা দেখেই পরবর্তী বামফ্রন্ট বৈঠকে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে চাইছে বামফ্রন্ট৷ শুক্রবার ফ্রন্ট চেয়ারম্যানের কথায় এই রকমই ইঙ্গিত মিলেছে৷

রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি), এনসিপি এবং সিপিআই এম এল লিবারেশন লোকসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়৷ তারা বাম সমর্খিত দল হিসেবে লড়াই করবে নাকি নিজেদের প্রতীকে লড়বে তা বামফ্রন্টের সভায় ঠিক হয়নি৷ চার প্রধান বাম শরিক (সিপিএম, সিপিআই, আরএসপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লক) কংগ্রেস নিয়ে একই মতামত দেয়নি৷ এক বাম শরিক কংগ্রেস নিয়ে শক্ত মনভাব দেখিয়েছে৷ বাকি তিন শরিক কিছুটা নরমপন্থী৷ তারা দেখে-বুঝে পা ফেলতে চায়৷

রাজ্যে ২০ থেকে ২২টি আসনে লড়াই করতে চান সিপিএম৷ বামফ্রন্টের সব থেকে বড় শরিক বাম বৈঠকে স্বীকার করে নিয়েছে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলীয় সংগঠনের দিকে তাকিয়ে ২০-২২টি আসনে লড়াই করাই যথেষ্ট৷ দলের সাংগঠনিক ক্ষমতা অনুযায়ী লড়াই করলে ফলাফল ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের থেকে ভালো হবে৷ অন্য তিন প্রধান বাম শরিক – সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপি-কে ৩টি করে আসন দেওয়ার পক্ষপাতি সিপিএম৷ সেক্ষেত্রে, কংগ্রেসের সঙ্গে বামফ্রন্টের আসন সমঝোতা হলে, কংগ্রেস ১১-১২টি আসনে লড়াই করতে পারবে৷

তবে, কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার কোনও সম্ভাবনাই আপাতত দেখতে পাচ্ছেন না বাম নেতারা৷ বিমান বসু এদিন জানান, শরিকরা ৯টি আসনেই লড়াই করবে৷ তৃণমূল-বিজেপিকে আটকাতে আসন সমঝোতার প্রশ্নে আরএসপি বহরমপুরে প্রার্থী দেবে না৷ কিন্তু, কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও আসন সমঝোতা না হলে বহরমপুরে আরএসপি প্রার্থী দেবে৷ এক্ষেত্রে কংগ্রেস কী করে সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বামফ্রন্ট৷