সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: নেতাজীর পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। কিন্তু নেতাজীর পূর্বপুরুষদের ইতিহাস বলতে গেলে অজানা। খুঁজতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে নেতাজী হলেন পুরন্দর খাঁ-এর বংশধর। এই পুরন্দর খাঁ বাংলার স্বাধীন নবাব হুসেন শাহের পরামর্শদাতা। আজও কোদালিয়া গ্রাম এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তাদের প্রচুর জমিজমা বর্তমান। ‘পুরন্দর খাঁ’ উপাধিপ্রাপ্ত গোপীনাথ বসুকে এই জমি দান করেছিলেন তৎকালীন নবাব।

জনশ্রুতি অনুযায়ী এই ‘গোপীনাথ বসু’ ছিলেন গৌড়েশ্বর হুসেন শাহর প্রধান অমাত্য।তিনি গৌড়েশ্বরের কাছে থেকে ‘পুরন্দর খাঁ’ উপাধি লাভ করেছিলেন। বেশ কিছু জমিজায়গা লাভ করেন। সেটাই আজ সুভাষগ্রাম এবং তাঁর পার্শ্ববর্তী কিছু অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। কয়েকশো বিঘা জমিজায়গা যা তিনি পেয়েছিলেন নবাবের থেকে তা পুরোটাই জলা জঙ্গলে ভরতি ছিল। অনেকে ওই জমিকে গোপীনাথের নিজস্ব কেনাও বলেন। গোপীনাথ এই জলাজঙ্গল সাফ করে একটি নগর তৈরী করেন।

ইতিহাসের কিছু তথ্য অনুযায়ী, এই গোপীনাথ বা পুরন্দরের সময়েই ওই সম্পূর্ণ অঞ্চলের নাম ছিল মালঞ্চ-মাহিনগর। সেটি এখন আবার সুভাষগ্রামের পাশের কিছু অঞ্চল। সেখানে একটি বড় পুকুর কাটিয়েছিলেন। সেই পুকুরের নাম ছিল সম্ভবত ‘ খাঁ পুকুর’। যেহেতু তাঁর উপাধির সঙ্গে খাঁ বা খান কথাটি জড়িত তাই তিনি এই নামকরন করেন।

স্থানীয় জমশ্রুতি থেকে যে তথ্য জানা যায় সেই অনুযায়ী ওই খাঁ পুকুর যখন কাটা হল তখন শ্রমিকরা বাঁশের ‘চাঁঙারি’ করে মাটি তুলেছিল। মাটি কোপানোর জন্য দরকার ছিল ‘কোদাল’ , যা মিলত ওই এলাকায়। যেখানে চাঙারি পাওয়া যেত সেই অঞ্চল পরবর্তীকালে ‘চাংরিপোতা’ নামে পরিচিত হয় আর ‘কোদাল’ থেকে ‘কোদালিয়া’ গ্রাম হয়ে যায়। অর্থাৎ মালঞ্চ – মাহিনগরের পাশের অঞ্চল হল ‘চাংরিপোতা’ ও ‘কোদালিয়া’ গ্রাম।

‘চাংরিপোতা’-য় ধীরে ধীরে রেল স্টেশন তৈরি হয়। তখনও বহু এলাকা জলাজঙ্গলে ভরতি। স্টেশনে মিট মিট করে আলো জ্বলত। নামেমাত্র কয়েকটি বাড়ি। বসবাসের অযোগ্য। বাম্প ইঞ্জিন থামত ‘ চাংরিপোতা’ স্টেশনে। এই চাংরিপোতা এবং কোদালিয়া এই দুই এলাকা ও আরও কিছু অঞ্চল নিয়ে বহু পরে সুভাষচন্দ্র বসুর নামে সুভাষগ্রাম নামে পরিচিত হয়।

এর আগে যখন চাংরিপোতা এবং কোদালিয়া সমস্ত আলাদা অঞ্চল ছিল তখন এলাকাগুলি বাংলার নবজাগরনের প্রধান ব্যক্তিত রামনারায়ন তর্কালঙ্কার এবং শিবনাথ শাস্ত্রীর জন্মস্থান হিসাবে খ্যাত ছিল। বর্তমানে ‘রাজপুর-সোনারপুর’ পৌরসভা ও বারুইপুর থানার অন্তর্ভুক্ত এই সুভাষগ্রাম। বারুইপুরগামী যে কোনও ট্রেনে উঠলেই সুভাষগ্রামে যাওয়া যায়। বর্তমানে এই স্টেশন রীতিমত ব্যস্ত ও জনবহুল হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত জানকীনাথ বসু অর্থাৎ সুভাসচন্দ্রের বাবা পুরন্দর খাঁ’য়ের ত্রয়োদশ প্রজন্ম। দশরথ বসুর ২৬তম প্রজন্ম। অন্তত দশ পুরুষ ধরে এই অঞ্চলে বসু পরিবারের বাস যা এখনও চলছে।