স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাগরি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় খারিজ মার্কেটে’র সিইও কৃষ্ণকুমার কোঠারি’র আগাম জামিনের আবেদন৷ মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে’র বিচারপতি দেবাংশু বসাকে’র ডিভিশন বেঞ্চ আগাম জামিনে’র আবেদন খারিজ করে দেন৷

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত ‘জনস্বার্থ মামলা’য় অসন্তুষ্ট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি

গত ১৬ই সেপ্টেম্বর ভোররাতে আগুন লাগে বড়বাজারের বাগরি মার্কেটে৷ প্রায় পাঁচ দিন পর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে৷ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় গোটা বাজার৷ উৎসবের মরসুমে সর্বশান্ত হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা৷ অভিযোগ ওঠে বাগরি মার্কেটে দমকল আইন মেনে ছিল না কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা৷ পর্যাপ্ত নয় আগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও৷ বেআইনীভাবে টাকা নিয়ে বাগরির মালিকরা মার্কেটে’র বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসা করার অনুমতি দেন বলেও অভিযোগ সামনে আসে৷অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ ও দমকল বাগরির দুই মালিক রাধা বাগরি ও বরুণরাজ বাগরি’র বিরুদ্ধে বড়বাজার থানায় মামলা করে৷ মার্কেটের সিইও কৃষ্ণকমার কোঠারি বিরুদ্ধেও মামলা হয়৷ দমকল আইন না মানা ও ষড়যন্ত্রে’র আভিযোগে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজুর পর থেকেই পুলিশের খাতায় নিখোঁজ এই তিন অভিযুক্ত৷ তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়৷

গত ২৬শে অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন বাগরি অগ্নিকাণ্ডে অভিযুক্ত মার্কেটের সিইও কৃষ্ণকুমার কোঠারি৷ কিন্তু এদিন সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়৷ শুনানিতে কৃষ্ণকুমার কোঠারির আইনজীবী বলেন, ‘‘পুলিশের খাতায় তার মক্কেল পলাতক হলেও এন.এস.বোস রোডের বাড়িতেই রয়েছেন তিনি৷ তবে কীভাবে অভিযুক্তকে পলাতক হিসাবে দেখানো হচ্ছে৷? চাইলেই পুলিশ গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে৷’’ সরকারি আইনজীবীর যুক্তি ছিল তদন্তের স্বার্থেই কৃষ্ণকুমার কোঠারিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে৷

আরও পড়ুন: রথযাত্রা: স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে চিঠি বিজেপির

উভয়পক্ষের সওয়াল শেষে বিচারপতি জানান, পুলিশ ও দমকল বলছে বাগরি মার্কেটের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ঠিক ছিল না৷ কাজের দিন সকালে আগুন লাগলে প্রাণহানী সহ আরও বড় বিপর্যয়ে’র সম্ভাবনা ছিল৷ ব্যবসায়ীদের গোপন জবানবন্দীতে উঠে এসেছে বাজারের বিভিন্ন অংশ বেআইনীভাবে ব্যবসা’র জন্য ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি৷ তাই মার্কেটে’র সিইও’কে জিজ্ঞাসাবাদে’র দরকার আছে৷ ফলে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক৷