ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা। ভারতবাসীর কাছে নতুন করে তাঁর পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশবাসীর কাছে তিনি বীরসন্তান, যুদ্ধজয়ী। কিন্তু, তাঁর জীবনও ছিল আর পাঁচজন সাধারণ যুবকের মতই। ছিল বন্ধুত্ব, প্রেম। আজও প্রেমিকার স্মৃতিতে বেঁচে আছেন কার্গিল যুদ্ধের শহিদ বিক্রম।

ডিম্পল চিমার স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল বন্ধু বিক্রম। ১৯৯৫ তে পঞ্জাব ইউনিভার্সিটিতে দেখা হয়েছিল ডিম্পল আর বিক্রমের। সেই কয়েকটা মাস ছিল অত্যন্ত সুন্দর। ডিম্পল আর বিক্রমের মধ্যে তৈরি হচ্ছিল একটা মিষ্টি গল্প। আর সেটা যে চিরস্থায়ী হবে, এমনটাই জানতেন ডিম্পল। ৯৬-তেই ইউনিভার্সিটির পড়া শেষ করে দেরাদুনের মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন বিক্রম। ডিম্পল তখনও চণ্ডীগড়েই। তাতে কি? দু’জনের সম্পর্ক ছিল অটুট, অবিচ্ছেদ্য। ডিম্পলের সঙ্গে দেখা করতে মাঝে-মধ্যেই চণ্ডীগড় আসতেন বিক্রম।

চার বছরের সম্পর্ক। কার্গিল থেকে ফিরেই বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু ফেরা হয়নি বিক্রমের। দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়েই শেষ হয়ে যায় একটা লাভ স্টোরি। কিন্তু সেখানেই থেমে যায়নি ভালোবাসা। চণ্ডীগড় ফিরে এসে স্মৃতি নিয়েই বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নেন ডিম্পল।

সংবাদমাধ্যমে ডিম্পল বলেন, এত বছর পরও তিনি মনে করতে পারেন কতটা উত্তেজনা নিয়ে তাঁকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার খবরটা দিয়েছিলেন বিক্রম।

মনসা দেবী মন্দিরে প্রায়ই দেখা করতেন তাঁরা। তবে এক বিশেষ দিনের কথা আজও মনে রেখেছেন ডিম্পল। সেদিন মন্দির পরিক্রমা করার সময় হঠাৎ বিক্রম বলেছিলেন, ‘কনগ্র্যাচুলেশন মিসেস বাত্রা’ তখনই তাকিয়ে দেখেন বিক্রম তাঁর ওড়নার একটা অংশ হাতে চেপে একথা বলছেন। বিক্রম বলেছিলেন, ‘বুঝতে পারলে না এই নিয়ে আমরা চারবার পরিক্রমা করলাম?’ এমনকি বিয়ে নিয়ে বারবার জিজ্ঞেস করায় একবার নিজের হাত কেটে রক্ত লাগিয়ে দিয়েছিলেন ডিম্পলের সিঁথিতে। তাই বিক্রমকে ‘পুরা ফিল্মি’ বলে খেপাতেন ডিম্পল।

বিক্রমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজ যখন সবার মুখে তোমার বীরত্বের কথা শুনি, তখন সত্যিই গর্ব হয়। শুধু একটাই দুঃখ। আজ যদি থাকতে এসব শোনার জন্য। তবু আমি বিশ্বাস করি তোমার সঙ্গে দেখা হবেই, শুধু সময়ের অপেক্ষা।’