কলকাতা: বাইপাসের পাঁচতারা হোটেলের বাইরে সমর্থকদের জমায়েতটা দেখলেই শিউরে উঠতে হত। এরপর ট্রফি নিয়ে শোভাযাত্রা যত এগোতে লাগল দীর্ঘ হতে থাকল র‍্যালি। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রবিবার সকালে বাইপাসের একটি পাঁচতারা হোটেলে মোহনবাগানের হাতে উঠল আইলিগ ট্রফি।

গত মার্চে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দীর্ঘ সাত মাসের অপেক্ষা। করোনা আবহে সে সময় সেলিব্রেট না করতে পারা সমর্থকেরা নিঃসন্দেহে সেলিব্রেশনগুলো তুলে রেখেছিলেন।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

কিন্তু করোনা যে চলে যায়নি। বরং সেকেন্ড ওয়েভে করোনা যেভাবে চোখ রাঙাচ্ছে তাতে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। এমন একটা সময় যখন দর্শকহীন স্টেডিয়ামে সবে সবে খেলাধুলো ফিরেছে। সে সময় করোনার চোখ-রাঙানিকে উপেক্ষা করে শহরের রাস্তায় মাস্কহীন হয়ে, ডিসট্যান্সিং শিঁকেয় তুলে যেভাবে সেলিব্রেশনে মাতলেন মেরিনার্সরা তাতে এই সেলিব্রেশন বিষাদের সুর ডেকে আনবে না তো? প্রশ্ন জাগতে বাধ্য। পাঁচতারা হোটেলে এদিন ক্লাবের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া অবধি ঠিক ছিল সবকিছু।

কিন্তু ট্রফি হোটেল থেকে বাইরে বেরোতেই সব ঘেঁটে গেল। করোনাকে একপ্রকার আলিঙ্গন করে সময়ের সাথে সাথে লম্বা হতে থাকল মেরিনার্সদের ট্রফি র‍্যালি। উল্টোডাঙা ক্রসিংয়ে জনসমুদ্র দেখলে মনে হতো বুঝি করোনা নামক অতিমারির সঙ্গে পরিচয়ই হয়নি মানুষের। নিঃসন্দেহে কলকাতা ভারতীয় ফুটবলের মক্কা। কিন্তু বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব যখন করোনা আবহে চলতি বছর অনেকটাই ফিকে, তখন দ্বিতীয়ার সকালে এমন একটা কান্ড করে শহরের সংক্রমণটা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিলেন না তো মোহনবাগান সমর্থকেরা?

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

মেরিনার্সদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ অন্তত উৎসবের মরশুম শুরুতে কাম্য ছিল না শহর কলকাতার। সন্ধ্যায় মোহনবাগানের কীর্তিকে সম্মান জানিয়ে সবুজ-মেরুন রঙে উদ্ভাসিত হবে হাওড়া ব্রিজ। তার আগে কোথাও আবেগের বশবর্তী হয়ে শহর কলকাতার সঙ্গে এবং শহরের মানুষের সঙ্গে অন্যায় করে বসলেন না তো মোহনবাগান সমর্থকেরা? এর কোনও সদুত্তর নেই মোহনবাগান কর্তাদের কাছেও। তারা আবেদন রেখেছিলেন সমর্থকদের কাছে যে উৎসব যেন বিষাদে পরিণত না হয়। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা কী নিয়েছিলেন? ব্যবস্থা যে গ্রহণ করেননি সেটা চিত্র দেখেই পরিষ্কার।

সমর্থকেরা না হয় আবেগের বশবর্তী হয়েছেন। তাই কর্তাদের আগাম সতর্কতা হিসেবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আরেকটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন ছিল না? তারা হয়তো বলবেন এমনটা আঁচ করতে পারেননি। কিন্তু প্রশ্নগুলো শীঘ্রই ধেয়ে আসবে দেবাশিস, সৃঞ্জয়দের কাছে।

এর আগে রবিবার সকালে বাইপাসের পাঁচতারা হোটেলে এদিন আইলিগের সিইও সুনন্দ ধর, রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস আইলিগ ট্রফি তলে দেন বাগান কর্তাদের হাতে। ছিলেন লিগজয়ী দলের সদস্য ধনচন্দ্র সিং। কোচ কিবু ভিকুনা, কোমরন তুরসুনভরা ছিলেন ভিডিও কলে। ভিকুনা, বেইতিয়া, শুভ ঘোষ সহ লিগ জয়ী দলের সদস্যদের বার্তা তুলে ধরা হয় সকলের সামনে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.