স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেও শাসক দলের জয়ী তিন প্রার্থী শুভেচ্ছা জানালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়৷ রীতিমতো বিবৃতি জারি করে তৃণমূল কংগ্রেসের তিন বিধায়ককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি৷

শনিবার রাজভবন থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “মাননীয় গভর্নর শ্রী জগদীপ ধনখড় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সম্প্রতি নির্বাচিত তিন সদস্যকে শ্রী প্রদীপ সরকার, শ্রী তপন দেব সিনহা এবং শ্রী বিমলেন্দু সিনহা রায়কে আইনসভার সদস্য হিসেবে কাজ শুরুর আগে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।” গত ২৮ নভেম্বর কালিয়াগঞ্জ, করিমপুর ও খড়গপুর সদর উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদের পিছনে ফেলে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে তৃণমূল। এই জয় যেমন তৃণমূল শিবিরে স্বস্তি এনে দিয়েছে, তেমনি জোর ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি নেতৃত্বকে ।

রাজভবনের প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাজ্যপাল শ্রী ধনখড় আশা প্রকাশ করেছিলেন যে তারা এই দুর্দান্ত সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে জনস্বার্থ এবং রাজ্যের উন্নয়নে সামিল হবেন। সেই সঙ্গে জনগণের চাহিদা প্রকল্পের জন্য সমাবেশটি একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম এবং এতে অর্থবহ অংশ নেওয়া জনসাধারণকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করবে।” তিনি জনজীবন এবং আইনসুলভ আচরণ উভয় ক্ষেত্রেই সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন নবনির্বাচিত বিধায়কদের।

উল্লেখ্য, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কার্যকলাপ ও নানা সরকার বিরোধী বিবৃতির কারণে বিরক্ত স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি সেই তিক্ততা আরও বেড়েছে। বিধানসভায় সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে এসে বক্তৃতা দেওয়ার পর রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন “তু চিজ বড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত”! মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতির পাল্টা টুইট করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজ্যপাল। তৃণমূল নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল পদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে৷ তাঁর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অধিকারের বেড়া ভেঙে কাজ করার, এমনকী সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর অভিযোগ করছে সরকার এবং শাসক শিবির৷

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের শুভেচ্ছা জানানোতে রাজ্যপালের কৌশলী মনোভাব রয়েছে৷