স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ফের রাজ্যের সঙ্গে রাজভবনের সংঘাত চরমে। বৃহস্পতিবার মহাত্মা গান্ধীর প্রয়াণ দিবসে গান্ধীঘাটে এসে বারাকপুরের পুলিসশ কমিশনার মনোজ ভর্মাকে নজিরবিহীন ভাবে ভর্ৎসনা করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। এবার সেই ইস্যুতে রাজ্যপালের নিন্দায় সরব হয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

বনগাঁ পুরসভার মিটিং হলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ”রাজ্যপালের চিকিৎসার প্রয়োজন। রাজ্যপাল তার সীমা লঙ্ঘন করছেন। তাঁর উচিত বারাকপুর পুলিশ কমিশনারের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়া। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের হাতে ঘেরাও হচ্ছে। এবার পাড়ায় গেলেও জনগণ আটকাবে রাজ্যপালকে। রাজ্যপাল নিজেই নিজেকে হাস্যকৌতুকের জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন,”দিলীপ ঘোষ একটা পাগল। পাগলা গারদ থেকে ছাড়া পেয়ে উল্টোপাল্টা বকছে। বিজেপি বাংলাকে বেপথে পরিচালিত করছে। বাংলাতে আসামের পরিস্থিতি তৈরি করছে। আমরা তা কোনদিনও করতে দেবো না।”

প্রসঙ্গত, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী বনগাঁ স্টেডিয়ামে জনসভা করবেন। তাই দলের নেত্রী আসার আগে বৃহস্পতিবার বনগাঁ পৌরসভার মিটিং হলে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বৈঠক করেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
জানা গিয়েছে, এই সভায় বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, বাগদা, গাইঘাটা ও স্বরূপনগর থেকেই বেশি সংখ্যক দলীয় কর্মী সমর্থককে হাজির করবার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিন বনগাঁ পুরসভা হলে সভা সফল করতে দলের প্রস্তুতি বৈঠকে নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

৪ তারিখের আগে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের পাঁচটি বিধানসভা এলাকায় ছোট ছোট পথসভা ও মিছিল করে প্রচারে ঝড় তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র ছাড়াও হাবড়া, অশোকনগর, দেগঙ্গা এবং বাদুড়িয়া বিধানসভা এলাকা থেকেও কর্মী সমর্থকদের সভায় আনা হবে।

এছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মীরাও আসবেন। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই সভা থেকেই সিএএ বিরোধী হাওয়া জোরদার করার পাশাপাশি পুরভোটের অক্সিজেনও নিয়ে রাখতে চাইছে শাসক দল।