স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর:  রাজ্যপাল হিসাবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্যের সঙ্গে বেড়েই চলেছে রাজভবনের সংঘাত। প্রতি পদে পদে সাংবিধানিক প্রধানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জেরে ,তৃণমূল সুপ্রিমোর তথা শাসক দলের কাছে চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন তিনি। এবার সেই রাজ্যপালকে প্রকাশ্যে ” মানসিক ভারসাম্যহীন” বলে তীব্র সমালোচনা করল রাজ্যের মন্ত্রী তথা বরানগরের বিধায়ক তাপস রায়।

শুক্রবার ভাটপাড়ার শতদল মাঠে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করে উওর চব্বিশ পরগনা জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিনের জনসভায় যেমন বিজেপির লাগাম ছাড়া সন্ত্রাসবাদ এবং এন আর সির বিরোধীতা করা হয়। তেমনই একদিকে বিজেপিকে আক্রমন। অন্যদিকে, এই জনসভা থেকেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়।

তিনি রাজ্যপাল সম্পর্কে বলেন, “আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি উনার মানসিক ভারসাম্য ঠিক নেই। যে ভাষায় উনি আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কথা বলছেন, তাতে মনে হচ্ছে উনার মানসিক সমস্যা আছে। দিল্লী থেকে মোদী, শাহ ফোন করে যা বলেন, সেই কাজ উনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। আমার বলতে লজ্জা হয়, এই রকম একজন মানুষকে এই রাজ্যে সাংবিধানিক প্রধান করে পাঠানো হয়েছে।”

গত শুক্রবারই বিজেপি পরিচালিত ভাটপাড়া পুরসভায় অনাস্থা এনেছে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলররা। এরপরই শনিবার এই পুরসভা এলাকার শতদল মাঠে বিজেপির বিরুদ্ধে জনসভার আয়োজন এই জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। এদিনের জনসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, তাপস রায়, নির্মল ঘোষ, পার্থ ভৌমিক, পরশ দত্ত, রফিকার রহমান, প্রাক্তন সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী সহ কয়েক হাজার তৃণমূল সমর্থক। এন আর সি থেকে পেট্রোল ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি বা প্রধান মন্ত্রীর ঘন ঘন বিদেশ সফর সব কিছু নিয়েই এই জনসভা থেকে বিজেপির সমালোচনায় সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতারা

শনিবারের জনসভায় এসে খাদ্যমন্ত্রী দাবি করে জানান, “ভাটপাড়া আমাদের টার্গেট, ভাটপাড়া নেবই, এই বারাকপুরের এক বিধায়ক আমাদের দলের মন্ত্রীদের দরজার সামনে ঘুর ঘুর করছে। বুঝে নিন সে কে, ওর বাড়ির দেওয়ালে লেখা আছে একবার ডাকলেই যাই। কিন্তু দল ছেড়ে চলে যাওয়া কোনও বিধায়ককে দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়নি।”

এই প্রসঙ্গে, বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তৃণমূলের কোনও মন্ত্রীর দরজায় যাননি। তৃণমূলে ফিরছেন না তিনি। ফলে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কথার সূত্র ধরে নাম উঠে আসছে নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিংয়ের। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “ওদের এক বিধায়ক মন্ত্রীদের ঘরের সামনে ঘুরঘুর করছে, তবে অন্য বিধায়করা একই সুতোয় বাঁধা । বিয়ে বাড়িতে একজনের খেতে ইচ্ছা হলে যেমন বলে পাশের জনকে দিয়ে যান। ব্যাপারটা সেই রকম।” এদিকে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের যে সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরী হয়েছে সেই দুর্বলতা কাটাতে সর্ব শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে তৃণমূল।

জানা গিয়েছে, আগামী ২৭ শে জানুয়ারি এই প্রথমবার নৈহাটি উৎসবের উদ্বোধন করতে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে একথা স্পষ্ট, রাজনৈতিক ভাবে বারাকপুরে বিজেপিকে ধাক্কা দিতে সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে বৃদ্ধি করছে শাসক দল।