ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের ঝুঁকির মুখে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হয় সরকারি কর্মীদের৷ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের প্রতিটি বুথেই আধাসামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়েছে সরকারি কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন৷ এই ঘটনা ধরেই সরকরি এবং আধাসরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলি আবার সামনে আনতে চলেছে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ৷ সংগ্রামী মঞ্চের তরফে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে দাবি জানানো হয়েছে, ভোটকর্মীরা যদি আহত বা নিহত হন তবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে৷ এই বিষয়ে আদালতের নির্দেশও রয়েছে৷

সরকারি কর্মচারিদের ৯টি সংগঠনের মিলিত যৌথ মঞ্চ ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে কয়েকদিন আগে অবস্থান বিক্ষোভও করেছে৷ তবে নির্বাচনের মরশুমে সরকারি এবং আধাসরকারি, শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা দীর্ঘদিনের দাবিগুলিকেই আবার সামনে এনেছেন৷ যৌথমঞ্চের দাবি, অবিলম্বে প্রাপ্যদিন থেকে বকেয়াসহ কেন্দ্রীয়হারে মহার্ঘভাতা দিতে হবে৷ অবিলম্বে বেতন কমিশনের দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ করে ২০১৬ সালের পয়লা জানুয়ারির তারিখ থেকে বেতন কাঠামো চালু করতে হবে৷ সরকারি কর্মীদের বদলির হুমকি এবং অযথা হয়রানি করার জন্য বদলী বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে৷

নির্বাচনের মুখে সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলির আরও দাবি, সরকার বিরোধী সংগঠন নেতাদের কলকাতার বাইরে ইচ্ছাকৃতভাবে বদলি করা হয়েছে৷ সুষ্ঠু বদলীনীতি চালু চালু করতে হবে৷ শূন্যপদে নিয়োদ চালু করতে হবে৷ বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষাকদের দাবিগুলি নিয়েও সরব হয়েছে যৌথ মঞ্চ৷

বীরভূমের ইলামবাজারে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স (ডিএ) বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী পাওনা ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন৷ লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রাথমিক ভাবে রাজ্য সরকারি কর্মীরা মনে করেছেন, রাজ্য সরকার বোধ হয় এবার থেকে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার কথা চিন্তা করেছে৷ কিন্তু সরকার বিরোধী সংগঠনগুলি দাবি করেছিল মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অবাস্তব৷

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে তৈরি সংগঠনগুলি মনে করছে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা ২০১৮ সালেই করেছেন৷ বকেয়া ২৫ শতাংশ ডি এ পাওয়ারই ছিল৷ এতে উল্লসিত হওয়ার কোনও কারণ নেই৷ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে অনেকেই রসিকতা বলেছিলেন৷ কারণ ওই মুহূর্তে রাজ্য-কেন্দ্র ডিএ-এর ফারাক ছিল ২৩ শতাংশ৷

কর্মী এবং কর্মী সংগঠনের নেতারা যা বলছেন, তা হল, ২০১৮ সালের পুজোর আগে, গত জুন মাসের ২৮ তারিখ ২৫ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তবে এখানে ২৫ শতাংশই ডি এ নয়৷ মাত্র ১৮ শতাংশ ডিএ এবং ৭ শতাংশ অন্তর্বর্তী সুবিধা প্রদান বা ‘ইন্টেরিম রিলিফ’ এখানে যুক্ত করা হয়েছে৷ এভাবেই মোট মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশ৷

এই জায়গাতেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে কর্মীদের বিরোধ বেঁধেছে৷ একটি বড় অংশের সরকারি কর্মীদের দাবি, ডিএ -এর সঙ্গে ইন্টেরিম রিলিফ কীভাবে মিশিয়ে দিল রাজ্য সরকার? মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ রাজ্য সরকারকে দিতেই হবে৷ জিনিসপত্রের দাম বাড়লেই তা দিতে হয়৷ কিন্তু তার সঙ্গে কোন যুক্তিতে ইন্টেরিম রিলিফকে যুক্ত হল? নতুন স্কেল চালু না হওয়া পর্যন্ত ইন্টেরিম রিলিফ চালু থাকে৷ এরাজ্যে সেই রকমই হয়ে এসেছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারেরও এটিই নিয়ম৷

বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ১০০ শতাংশ ডিএ পেয়ে থাকেন৷ কেন্দ্রীয় সরকারি ১৫৬ শতাংশ ডিএ পান৷ সুতরাং তফাৎ হল ৪৮ শতাংশ৷ জানুয়ারিতে ১২৫ শতাংশ ডিএ যদি রাজ্য সরকারি কর্মীরা পান, তাহলেও, ৩১ শতাংশ ডিএ -এর ফারাক ৷ রাজ্য সরকারি কর্মীরা বর্ধিত ডিএ হাতে পাবেন জানুয়ারির ৩১ তারিখ থেকে৷ তবে একথাও মনে রাখা প্রয়োজন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন স্কেলও রাজ্য সরকারি কর্মীদের থেকে আলাদা৷