সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ডিপ্রেশন কাটানোর জন্য ‘হ্যাপি পিল’ হিসাবে মেয়েটি বেছে নিয়েছিল ফটোগ্রাফি। আর তাতেই কামাল। মন ভালো তো হয়েইছে, সঙ্গে যেটা হয়েছে সেটা আরও মন ভালো করে দেওয়ার মতো। ছবি তুলে পেয়ে গিয়েছে জাতীয় পুরস্কার। মেয়ের নাম রনিতা।

২০১৪ সাল। কলেজে পড়াশোনা চলছিল রনিতার। তাঁর কথায় , “একদমই ব্যক্তিগত কারণে ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। ঘর থেকে বেরোতে ভালো লাগতো না। একসময় মনে হয়েছিল যদি কিছু করে মন ঠিক করা যায়। তাই ক্যামেরা আমার ছিল, সেটা নিয়ে ছবি তুলতে বেড়িয়ে যাই। সেটাই এমন ভাবে কাজ করবে সেটা ভাবিনি। পড়ে ভেবে দেখেছি এই ফটোগ্রাফি আমাকে অন্যদিকে ব্যস্ত করে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে।” তবে এটা কি কোনও উপায় হতে পারে মন খারাপ কাটানোর?

রনিতা জানিয়েছেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি না বা কোনও দাওয়াই দিতে পারি না যে ছবি তুললেই ডিপ্রেশন কাটবে। আগে তো ছবির তোলার জন্য ভালো লাগাটা থাকতে হবে।” রনিতা এও বলেছনে, “আমার ক্ষেত্রে এটা কাজ করেছে কারণ ছবিটা তুলতে আমি পছন্দ করতাম।” যদি সেটা থাকে তাহলে সেটাই হয়ে যেতে পারে। মনোবিদরা মনে করছেন, ‘যদি কেউ ছবি তুলে ভালো থাকে, ডিপ্রেশন কাটাতে পারে তাহলে সেটাই তার জন্য ওষুধ হতে পারে।’

জাতীয় পুরস্কারের প্রতিযোগিতার জন্য ফটোগ্রাফির শিক্ষক সুদীপ্ত চক্রবর্তী তাঁকে জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এই প্রতিযোগিতায় ছবি পাঠানোর জন্য। প্রথমে সম্ভব হয়নি। কিন্তু এই বছর ছবি পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমার মনেও ছিল না। যখন দিল্লি থেকে ফোন এল। সত্যি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিষয়টা আমার জন্য বিশাল বড় সম্মানের।”

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম ‘ন্যাশনাল ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড সেরিমোনি’ । সেখানেই প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার ক্যাটগরিতে স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা রনিতা। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী রাজ্যবর্ধন রাঠৌর’র হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।

আর পাঁচ জনের মতো রনিতার ফটোগ্রাফির শুরুটা হয়েছিল ছোট ডিজিটাল ক্যামেরা ও ফোনের ক্যামেরা দিয়ে। তারই মধ্যে কিছু ভালো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করতেন। ব্যাস এইটুকুই। এক্কেবারেই সাধারণ ভাবে যাত্রাটা শুরু হয়েছিল বিজ্ঞানের ছাত্রীর। প্রথম ডিএসএলআর উপহার বাবার থেকে। সেটাই হয়ে যায় মন ভালো রাখার ‘ওষুধ’ এবং জাতীয় সম্মান পাওয়ার ‘অস্ত্র’

দেশ বিদেশ মিলিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় খান ত্রিশেক পুরস্কার রয়েছে রনিতার ঝুলিতে। নতুন পালক জাতীয় পুরস্কার। রনিতার ছবি তোলার পছন্দের বিষয় ‘স্টোরি টেলিং ফটোগ্রাফি’। মহিলারা কিভাবে স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছে তা ছবির মাধ্যমে গল্প বলার কাজ শুরু করেছেন গত বছর থেকে। সেই কাজটা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। ছবির মাধ্যমেই সমাজ সচেতনতার এই বার্তাটা পৌঁছে দিতে চান জাতীয় পুরস্কার জয়ী মেয়ে।